ভ্যাম্পায়ার_রহস্য

#পর্ব_৩_ও_৪
- সর্বনাশ বলতে আবার সেই ভ্যাম্পায়ার।
- মানে?
- দেখবেন চলুন।
আমি নীলের সাথে গেলাম। যেয়ে যা দেখলাম তাতে ভয়ে আঁতকে উঠলাম। এই হোটেলের দারোয়ান নিতাই এর লাশ পরে আছে সিড়ির কাছে। শরীর দেখে মনে হচ্ছে এক ফোঁটা রক্তও নেই। পুরো শরীর ফ্যাকাশে হয়ে আছে। চোখ দুটো ঠিকরে বের হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে আছে। সব মিলিয়ে ভয়ানক একটি দৃশ্য।
আমি ওনার কাছে গেলাম। যেয়ে দেখি গলায় দুটো ফুটো। সেই ফুটো দিয়েই রক্ত শুষে নেয়া হয়েছে। এত খারাপ ভাবে কেও কাওকে মারতে পারে আমার বুঝে আসলো না। কাল ইন্সপেক্টর নাদিম আর ওনার স্ত্রী যা যা বললেন সেসব কথা মনে পড়লো। এবার সত্যিই একটু একটু ভয় করছে আমার। নিতাই কাকুর জন্যও বেশ খারাপ লাগছে। কাল রাতেই কথা হলো মানুষটার সাথে আর আজ এই অবস্থা। আশেপাশের সবাই ওনাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। ওনার বাড়ি থেকে ওনার স্ত্রী আর এক ছেলে এসেছে। ওরা অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে। আমি একটু দূরে এসে দাড়ালাম। আমারও খারাপ লাগছিল ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে। খুব রাগ হচ্ছে ভ্যাম্পায়ার টার ওপর। মনে মনে ভেবে নিলাম যে এটা ভ্যাম্পায়ার হোক বা অন্য কিছু ওর মৃত্যু আমার হাতেই হবে। নিতাই কাকুর বাড়ির লোক তাকে নিয়ে গেল সৎকারের জন্য।
মন খারাপ করে বসে আছি রুমে। আজ নিতাই কাকুর সাথে যা হলো কাল আমাদের সাথেও তো এমনটা হতে পারে। হটাৎ করে নীল আসলো।
- নিতাই কাকুর কথা ভেবে কষ্ট হচ্ছে তাই না?
- হুম খুব। আসলে কাল রাতেই দেখলাম আর আজ এমন হলো।
- বুঝতে পারছি। কি করবেন বলুন। ওনার মৃত্যু ওই ভ্যাম্পায়ার এর হাতেই লেখা ছিল।
- হ্যা তবে ওই ভ্যাম্পায়ার এর মৃত্যু হবে আমার হাতে। তুমি আমাকে আজই শান্তর কাছে নিয়ে যাবে। ওর কাছ থেকে আমি সবটা শুনতে চাই ও ঠিক কি দেখেছিল।
হটাৎ করে ইন্সপেক্টর নাদিম আসলো রুমে।
- তোমাকে তো আগেই বলেছিলাম। তখন বিশ্বাস করলে না। এবার বিশ্বাস হলো তো?
- হুম এভাবে প্রমাণ পাব ভাবিনি। খুব খারাপ লাগছে। নীলকে নিয়ে যাব শান্ত বলে যে ছেলে টা আছে ওর সাথে দেখা করতে।
- ওহ তাই নাকি। খুব ভালো তো। চলো আমিও তোমাদের সাথে যাব।
আমরা তিনজন বিকেলে বের হয়ে গেলাম শান্তর সাথে দেখা করতে। অনিন্দ্যও আসতে চেয়েছিল কিন্তু হটাৎ একটা কাজ পড়ে যাওয়ায় আর আসতে পারল না। ওখানে যেতেই সবাই ইন্সপেক্টর নাদিম কে সেই ভ্যাম্পায়ার সম্পর্কে বলতে লাগল। কোন সমাধান হলো কিনা জিজ্ঞেস করতে লাগল। বুঝতে পারলাম সবাই ওনার উপর বেশ আশাবাদী। এরপর আমরা শান্তর বাড়িতে আসলাম। ওর বাড়ির লোক বলল সেই ঘটনার পর থেকে শান্ত বেশ চুপচাপ হয়ে গিয়েছে। ঘর থেকে বের হয়না। কারোর সাথেই তেমন কথা বলে না। ইন্সপেক্টর নাদিম ওকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে জিজ্ঞেস করল,
- তুমি সেদিন কি দেখেছিলে আমাদেরকে বলো।
- আমি আর আমার বন্ধু শামিম সেদিন একটু কাজে শহরের বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেল। জংগলের রাস্তা দিয়ে তাড়াতাড়ি আসা যায় তাই আমরা ওইদিক দিয়েই আসছিলাম গল্প করতে করতে। হটাৎ করে পাশে তাকিয়ে দেখলাম শামিম নেই। পেছনে তাকিয়ে দেখি একটা প্রাণী শামিমকে ধরে ওর রক্ত চুষে খাচ্ছে।
- কেমন দেখতে ছিল ও। তুমি কি ভালো করে দেখেছিলে?
বেশ কৌতুহল নিয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম। শান্ত বলল,
- কি বিভৎস চেহারা ছিল ওর। মানুষের মতোই প্রায়। একটা কালো রঙের লম্বা পোশাক পরে ছিল। লাল রঙের চোখগুলো অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছিল। মুখটা সাদা ধবধবে আর দুইপাশে দুইটা লম্বা দাঁত। সব মিলিয়ে খুব ভয়াবহ চেহারা ছিল। আমি ওকে দেখেই অজ্ঞান হয়ে গেলাম। তারপর আর কিছু মনে নেই আমার।
শান্তর দেয়া বর্ননা শুনে আমরা বেরিয়ে গেলাম। হোটেলে এসে নীলকে বললাম,
- একটা জিনিস বুঝতে পারলাম যে ভ্যাম্পায়ার টা সম্ভবত মানুষের রূপে আছে।
- হুম হতেই পারে। কিন্তু কিভাবে বুঝবো বলুন।
- এখন তো সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আপাতত হোটেলের আশেপাশে খুঁজে দেখি কিছু পাই কিনা। নিতাই কাকুকে মারতে তো ভ্যাম্পায়ার টা এই হোটেলেই এসেছিল।
- চলুন। আমিও যাচ্ছি আপনার সাথে।
আমি আর নীল হোটেলের বাইরে ভেতরে চারপাশে তন্নতন্ন করে খুজতে লাগলাম। হটাৎ করে হোটেলের পেছন দিকে একটা কালো রঙের কাপড় পেলাম। শান্তর কথা মনে পড়লো। ও বলেছিল ভ্যাম্পায়ারটা কালো রঙের পোশাক পরে ছিল। কাপড়টা হাতে তুলে নিলাম।দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এটা ছিঁড়ে গেছে গাছ বা কোন কিছুর সাথে লেগে। কাপড়টা থেকে একটা মিস্টি গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গন্ধটা আমার খুব পরিচিত লাগছে। কিন্তু ঠিক ধরতে পারলাম না কোথায় পেয়েছি। হটাৎ দূরে তাকিয়ে দেখলাম পুলিশ আসছে। তাড়াতাড়ি করে কাপড় টা লুকিয়ে নিলাম। নীলকে আর দেখানো হলো না। একজন পুলিশ এসে জিজ্ঞেস করল,
- আপনি তো এখানে নতুন এসেছেন তাই না?
- জী।
- এই সন্ধ্যার সময় বাইরে ঘুরছেন ভয় করেনা নাকি?
- নাহ আসলে একটু ঘুরতে বের হয়েছিলাম নীলের সাথে।
- এবার দিয়ে বারজন মানুষ মারা গেল। বুঝতে পারছি না ভ্যাম্পায়ারটাকে কিভাবে ধরবো।
- হয়তো আমাদের সাথেই মিশে আছে সে। কৌশলে ধরতে হবে।
- বাহ একদিনে এটা কিভাবে বুঝলেন আপনি?
- আজকে সেই ছেলেটার সাথে কথা বললাম যে প্রথম নিজের চোখে ভ্যাম্পায়ার দেখেছিল। সেই বলল যে ওটা অনেকটা মানুষের মতোই সে জন্য বললাম।
- তাই বলে তো আর মানুষ না যে আমরা এত সহজে বুঝে যাব।
- আসলেই এত সহজেই যদি বুঝতেন তাহলে তো আর এতগুলো মানুষ মারা যেত না।
বিরবির করে বললাম আমি। পুলিশটা বুঝতে না পেরে বললেন,
- কিছু বললেন কি?
- নাহ কিছু না। আচ্ছা আসি রাত হয়ে যাচ্ছে।
- হুম অবশ্যই। আর সাবধানে থাকবেন।
নিজের রুমে এসে কাপড়টা ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখলাম। দরজা, জানালা বন্ধ করে দিলাম। এবার সেই কাপড়টার কথা ভাবতে লাগলাম। হটাৎ জানালার কাঁচের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম। দুইটা লাল চোখ জ্বলজ্বল করছে। মুখটা অন্ধকারেও বোঝা যাচ্ছে সাদা ধবধবে। আর দুইপাশে দুইটা লম্বা দাঁত। শান্তর দেয়া বর্ননা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। বুকটা ধক করে উঠলো ভয়ে। কারণ ভ্যাম্পায়ারটা আমার দিকে হিংস্রভাবে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে কাছে পাওয়া মাত্রই সব রক্ত চুষে নিয়ে ওর রাগ মেটাবে। হয়তো ও বুঝে গেছে যে ওর পথে আমি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। হটাৎ দরজায় ঠকঠক করল কেও।
- আপু আমি তমাল। রাতের খাবার দিতে আসলাম।
দরজার দিকে তাকিয়ে আবার জানালায় তাকাতেই দেখি ভ্যাম্পায়ারটা নেই। মনের ভুল ছিল নাকি সত্যিই দেখলাম ঠিক বুঝতে পারলাম নাহ। তমালের থেকে খাবার নিয়ে খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরের দিন সকালে ইন্সপেক্টর নাদিম এর বাড়িতে গেলাম। যেয়ে ওনার বোন নিলিমার সাথে পরিচয় হলো আমার। আমার বয়সী মেয়েটা। ওনার স্ত্রীর মতো ওনার বোনও বেশ সুন্দরী। উনি বললেন,
- এ আমার বোন নিলিমা। একমাস হলো আমার এখানে বেরাতে এসেছে। ওর এতই ভালো লেগেছে এই জায়গাটা বলছে এখানেই থেকে যাবে। সেদিন তোমরা এসেছিলে তখন ও একটু বাইরে গিয়েছিল। তাই তোমাদের সাথে আলাপ হয়নি।
- ওহ আচ্ছা। আসলে আমি একটু কাজে এসেছিলাম। আপনি কাল রাত দশটার দিকে কোথায় ছিলেন?
- আমি তো কাল রাতে বাড়িতেই নিজের ঘরে শুয়ে ছিলাম। শরীরটা একটু খারাপ করেছিল সে জন্য আর কি।
- ওহ আচ্ছা। আমি পরে আসবো। এখন একটা কাজ আছে।
ওনার স্ত্রী আমাকে বসতে বললেন। আমি পরে অবশ্যই আসব বলে দ্রুত বের হয়ে গেলাম।
রাস্তায় হাটতে হাটতে ভাবছি ইন্সপেক্টর নাদিম কি ভ্যাম্পায়ার হতে পারে? নাহ এসব কি ভাবছি আমি। তাহলে কি ওনার বোন নিলিমা? সে তো একমাস হলো এখানে এসেছে। আর ও আসার পরপরই এই ভ্যাম্পায়ারের উপদ্রব শুরু হয়েছে। কিভাবে আমি প্রমাণ পাবো ভাবছিলাম। হটাৎ দেখা হলো সেদিনের সেই পুলিশ অফিসারের সাথে।
- অচেনা জায়গায় একা একা ঘুরছেন যে।
- নাহ একটু কাজে বের হয়েছিলাম।
- ওহ। শুনেছেন কি আরেকটা খুন হয়েছে।
#পর্ব_৪
- কি বলছেন আবার কে খুন হলো?
- জংগলে একটা লোক। কাঠ কাটতে গিয়েছিল। পেশাগত কাঠুরে যাকে বলে। আজ সকালে জংগলের বাইরে লাশ পাওয়া গিয়েছে। সেই একই ভাবে খুন।
- উনি রাতের বেলা কেন বের হলেন? ভালো করেই তো সবাই জানে যে রাতের বেলা বাইরে থাকা কতটা অনিরাপদ বর্তমানে।
- ওনার পরিবারের লোকের সাথে কথা বলেছি। আসলে উনি বিকেলেই বের হয়েছিলেন। কিন্তু পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী উনি মাতাল ছিলেন। যার কারণে ওনার জ্ঞান ছিল না যে কখন রাত হয়ে গিয়েছিল আর সে জন্যই এই অবস্থা।
মনে মনে ভাবলাম কাল রাতে হয়তো আমাকে মারতে না পেরে ও আরও রেগে গিয়েছিল। আর সে জন্য জংগলে যেয়ে ওই লোকটিকে মেরে ওর রক্ত খেয়ে রাগ মিটিয়েছে। হয়তো আজ রাতে আবার আসবে আমার রক্ত খেতে। পুলিশটিকে বিদায় দিয়ে আমি দ্রুত রুমে চলে আসলাম। এসেই দেখি নীল আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমাকে আসতে দেখেই উঠে দাড়ালো। ও কিছু বলার আগেই আমি ওকে কাল রাতের সব ঘটনা খুলে বললাম। সব শুনে ও বলল,
- এই অচেনা জায়গায় আপনি একা একা কেন বের হলেন। যদি আপনার কিছু হয়ে যেত অনিন্দ্য স্যারকে আমি কি জবাব দিতাম। এর পর থেকে প্লিজ যেখানেই যাবেন আমাকে সাথে নিয়ে যাবেন।
- আমার কিছু হবে না নীল। এত চিন্তা করতে হবে না তোমাকে।
- চিন্তা না এটা আমার দায়িত্ব। আপনি প্লিজ আমাকে বাধা দেবেন না।
এবার আমি হাসতে হাসতে বললাম,
- আচ্ছা ঠিক আছে। এরপর থেকে তুমি আমার সাথে যেও।
রাত হয়ে গিয়েছে। আমার বিশ্বাস ভ্যাম্পায়ারটা নিশ্চয় আসবে আমার উপর আক্রমণ করতে। ভীষণ ভয় করছে। ডিনার করে এসেই জানালা দরজা সব ভালো করে লাগিয়ে দিলাম। হটাৎ করে বাইরে থেকে একটা আওয়াজ পেলাম। মনে হচ্ছে কেও হেটে আসছে। বুঝতে পারলাম দরজার বাইরে থেকেই আসছে আওয়াজ টা। হটাৎ দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখি ছিটকিনি টা লাগানো হয়নি অসাবধানতায়। দৌড়ে ছিটকিনি লাগাতে যাব ওই মুহুর্তে কেও দরজাটা খুলে দিল। তখনও পুরোপুরি খুলতে পারেনি। তাই আমি দ্রুত খাটের নিচে লুকিয়ে গেলাম। সামান্য উঁকি দিয়ে দেখলাম ঘরে ঢুকলো সেই ভয়ংকর ভ্যাম্পায়ারটা। আমি দরজার পেছনেই লুকিয়ে গেলাম। হার্টবিট অনেক বেড়ে গিয়েছে। দুর্বল হার্টের মানুষ হলে হয়তো এতক্ষণে হার্টফেল করেই মারা যেত। ওর হিংস্র মুখটার দিকে তাকিয়ে আছি আর মনে মনে মৃত্যুর প্রহর গুনছি। চোখ দুটো লাল টকটকে যেন এখনি আমায় দেখে ফেলবে। হটাৎ করে ভ্যাম্পায়ার টা পেছনে ফিরল। আমার তো বোঝা হয়েই গিয়েছে আজ ওর হাতেই আমার মৃত্যু। চোখের সামনে মা-বাবা, অনিন্দ্য আর প্রিয়জনদের চেহারা ভেসে উঠলো। আমি এই প্রথম এতটা ভয় পেয়েছি।
আমার সব ধারণা ভুল প্রমাণ করে ভ্যাম্পায়ারটা যেন আমাকে দেখেও না দেখার ভান করলো। ও কিছু একটা খুজতে এসেছে বুঝতে পারছি। হটাৎ করে ভ্যাম্পায়ারটা খাটের ওপর থেকে আমার ব্যাগটা তুলে নিল। এরপর সেই কাপড়ের টুকরোটা বের করল। ওইটা নিয়ে ও বের হবে সেই সময় রুমে অনিন্দ্য আসলো।
- মিতু খুব সাবধানে থাকবি কিন্তু...
অনিন্দ্যর বলা শেষ না হতেই ভ্যাম্পায়ারটা ওকে দেখে ফেললো। আর সাথে সাথেই ও অনিন্দ্যর উপর ঝাপিয়ে পড়লো। আমি আর লুকিয়ে থাকতে পারলাম না। অনিন্দ্যকে বাঁচাতে আমি দৌড়ে গেলাম। ভ্যাম্পায়ারটা হিংস্র ভাবে অনিন্দ্যর দিকে তাকিয়ে আছে। আমার কেন জানি না মনে হচ্ছিলো অনিন্দ্যর উপর ওর অনেক রাগ পুষে রেখেছে। আমি যেয়ে পাশে থাকা একটা লাঠি দিয়ে ওর মাথায় আঘাত করলাম। এতে ওর কিছুই হলো না বরং ভ্যাম্পায়ারটা রেগে আমার দিকে আসলো আর লাঠিটা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলো। সেই সময় অনেক ধস্তাধস্তির পর একপর্যায়ে ওর গলায় থাকা মালার লকেট ছিড়ে আমার হাতে চলে আসাল। একটু পর ও আমাকে ঘরের এক কোনায় ফেলে দিয়ে দ্রুত বের হয়ে গেল। আমি চোখ বড় বড় করে দরজার দিকে তাকিয়ে আছি। একটু আগে যা কিছু ঘটলো আমার কাছে সব যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। অনিন্দ্য এগিয়ে এসে আমাকে বলল,
- মিতু তুই ঠিক আছিস তো?
- হু আছি। আমাকে বিছানায় তোল তো। উঠে বসারও শক্তি নেই আমার।
অনিন্দ্য আমাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নীলকে কল করলো ফাস্ট এইড বক্স আনার জন্য। নীল কিছুক্ষনের মধ্যেই ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসলে অনিন্দ্য ওকেই বলল আমার কপালে ব্যান্ডেজ করে দিতে। আমি একটু অবাক হলাম অনিন্দ্যর এই আচরণে কারণ ও নিজে ব্যান্ডেজ না করে নীলকে কেন বলল। কিছুক্ষণ পর অনিন্দ্য আমার কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
- আমি জানি তুই নীলকে ভালবাসিস। কারণ সেই ছোটবেলা থেকে তোর মন বুঝতে পারি আমি। আর সে জন্য নীলকে রেখে গেলাম তোর সেবা করার জন্য। অনেক ভালো ছেলে ও। রাত জাগবি না একদম। ঘুমিয়ে পড়িস গেলাম আমি।
এক নিশ্বাসে অনিন্দ্য কথাগুলো বলে চলে গেল। কিন্তু কথাগুলো বলার সময় অনিন্দ্যর গলা কাঁপছিল। হাজার হোক ও আমাকে ভালবাসে আর কেও জানুক না জানুক আমি সেটা জানি। এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
খুব সকালে ঘুম ভাংতেই দেখি নীল ডাক্তারকে নিয়ে পাশে বসে আছে। ডাক্তার সব চেকআপ করে চলে গেল। কিন্তু কাল রাতে এতটা ব্যাথা পেয়েছিলাম যে জ্বর চলে আসল। নীল সারাদিন আমার সেবা করলো। মাথায় জলপট্টি থেকে শুরু করে সব কিছু করলো আমাকে সারিয়ে তোলার জন্য। নিয়ম করে সব ওষুধ খাইয়ে দিল।
বিকেলে ইন্সপেক্টর নাদিম এলেন। উনাকে দেখেই আমি কাল রাতের সব ঘটনা খুলে বললাম। উনি সবটা শুনে বললেন,
- তোমার শরীর এখন ভালো না। এসব নিয়ে এত ভাবতে হবে না। আমার স্ত্রীরও শরীর ঠিক নেই। কাল রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যেয়ে সেই কি অবস্থা। ডাক্তার এসে ওষুধ দিয়ে গেছে।
আরও কিছুক্ষণ কথা বলে উনি চলে গেলেন। নীল আবার এসে আমাকে খাবার খাইয়ে, ওষুধ খাইয়ে ঘুমিয়ে যেতে বলল। আমিও খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম আর নীলকে নিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খুব ফ্রেশ লাগছে। কাল সারাদিন নীলের যত্নের কথা মনে পড়লো। একটা অদ্ভুত ভাললাগা কাজ করছে ওর প্রতি। অনিন্দ্যর বলা কথাগুলো মনে পড়লো। মনে মনে ভাবলাম তবে কি সত্যিই আমি নীলকে ভালবেসে ফেলেছি। ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই দেখি সেই পুলিশ অফিসার হাজির। আমাকে দেখেই বললেন,
- তাহলে ভ্যাম্পায়ারটা আপনাকে ও আক্রমণ করে বসলো।
- হুম
- সে একটা মানুষকে মারতে এসে তার সাথে হেরে গেল বিষয়টা আসলেই ইন্টারেস্টিং।
- সে মারতে আসেনি।
- ওহ তারমানে আপনার সাথে তার বুঝি বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। সে জন্য দেখা করতে এসেছিলো। আরে মজা করলাম।
আমার এই পুলিশ অফিসারকে একদম পছন্দ না। তাই আর কথা না বাড়িয়ে রুমে চলে আসলাম। নীল ওনাকে বুঝিয়ে বলল যে আমার শরীর ভালো নেই তাই কথা বলতে পারব না।
একটু পরে নীল ঘরে আসতেই ওকে বললাম,
- ভ্যাম্পায়ারটা কিন্তু আমাকে মারতে আসেনি। বরং ও এসেছিল সেই কাপড়টা নিতে। কারণ ও চায়নি যে ওকে খুঁজে পাওয়ার কোন প্রমাণ আমার হাতে থাকুক।
- তা নাহয় বুঝলাম। কিন্তু ও কাছে পেয়েও কিন্তু প্রায় ইচ্ছে করেই আপনাকে ছেড়ে দিল। ও হাতের কাছে মানুষ পেয়েও তাকে আক্রমণ করে এভাবে চলে গেল কেন এটা কিন্তু একটা প্রশ্ন।
- ঠিক বলেছ তুমি। আমিও সেই কথাটাই ভাবছি। আরও কিছুক্ষণ কথা বলার পর নীল ওর কাজে চলে গেল আর আমি টেবিলের ওপর থেকে একটা বই নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। হটাৎ করে আমার সেই লকেটের কথা মনে পড়লো। কিন্তু কোথায় রেখেছি ঠিক মনে পরছে না। টেবিলের আশে পাশে খুঁজে দেখলাম টেবিলের নিচে পড়ে আছে ওইটা। হাতে নিয়ে দেখলাম লকেট টাতে “V" লেখা। আমি মনে মনে ভাবলাম V তে মনে হয় ভ্যাম্পায়ার। কিন্তু সাধারণত লকেটে মানুষের নামের প্রথম অক্ষর থাকে। তাহলে কি ভ্যাম্পায়ারটার নামও V দিয়ে শুরু । এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ করে আমার হাত কেঁটে গেলো। আমি ফ্যালফ্যাল করে হাতের দিকে তাকিয়ে আছি। এভাবে কারণ ছাড়াই হটাৎ করে হাত কিভাবে কাঁটলো বুঝতে পারছি না। এদিকে আঙুল দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করেছে...
চলবে...
#ভ্যাম্পায়ার_রহস্য
#পর্ব_৪
- কি বলছেন আবার কে খুন হলো?
- জংগলে একটা লোক। কাঠ কাটতে গিয়েছিল। পেশাগত কাঠুরে যাকে বলে। আজ সকালে জংগলের বাইরে লাশ পাওয়া গিয়েছে। সেই একই ভাবে খুন।
- উনি রাতের বেলা কেন বের হলেন? ভালো করেই তো সবাই জানে যে রাতের বেলা বাইরে থাকা কতটা অনিরাপদ বর্তমানে।
- ওনার পরিবারের লোকের সাথে কথা বলেছি। আসলে উনি বিকেলেই বের হয়েছিলেন। কিন্তু পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী উনি মাতাল ছিলেন। যার কারণে ওনার জ্ঞান ছিল না যে কখন রাত হয়ে গিয়েছিল আর সে জন্যই এই অবস্থা।
মনে মনে ভাবলাম কাল রাতে হয়তো আমাকে মারতে না পেরে ও আরও রেগে গিয়েছিল। আর সে জন্য জংগলে যেয়ে ওই লোকটিকে মেরে ওর রক্ত খেয়ে রাগ মিটিয়েছে। হয়তো আজ রাতে আবার আসবে আমার রক্ত খেতে। পুলিশটিকে বিদায় দিয়ে আমি দ্রুত রুমে চলে আসলাম। এসেই দেখি নীল আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমাকে আসতে দেখেই উঠে দাড়ালো। ও কিছু বলার আগেই আমি ওকে কাল রাতের সব ঘটনা খুলে বললাম। সব শুনে ও বলল,
- এই অচেনা জায়গায় আপনি একা একা কেন বের হলেন। যদি আপনার কিছু হয়ে যেত অনিন্দ্য স্যারকে আমি কি জবাব দিতাম। এর পর থেকে প্লিজ যেখানেই যাবেন আমাকে সাথে নিয়ে যাবেন।
- আমার কিছু হবে না নীল। এত চিন্তা করতে হবে না তোমাকে।
- চিন্তা না এটা আমার দায়িত্ব। আপনি প্লিজ আমাকে বাধা দেবেন না।
এবার আমি হাসতে হাসতে বললাম,
- আচ্ছা ঠিক আছে। এরপর থেকে তুমি আমার সাথে যেও।
রাত হয়ে গিয়েছে। আমার বিশ্বাস ভ্যাম্পায়ারটা নিশ্চয় আসবে আমার উপর আক্রমণ করতে। ভীষণ ভয় করছে। ডিনার করে এসেই জানালা দরজা সব ভালো করে লাগিয়ে দিলাম। হটাৎ করে বাইরে থেকে একটা আওয়াজ পেলাম। মনে হচ্ছে কেও হেটে আসছে। বুঝতে পারলাম দরজার বাইরে থেকেই আসছে আওয়াজ টা। হটাৎ দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখি ছিটকিনি টা লাগানো হয়নি অসাবধানতায়। দৌড়ে ছিটকিনি লাগাতে যাব ওই মুহুর্তে কেও দরজাটা খুলে দিল। তখনও পুরোপুরি খুলতে পারেনি। তাই আমি দ্রুত খাটের নিচে লুকিয়ে গেলাম। সামান্য উঁকি দিয়ে দেখলাম ঘরে ঢুকলো সেই ভয়ংকর ভ্যাম্পায়ারটা। আমি দরজার পেছনেই লুকিয়ে গেলাম। হার্টবিট অনেক বেড়ে গিয়েছে। দুর্বল হার্টের মানুষ হলে হয়তো এতক্ষণে হার্টফেল করেই মারা যেত। ওর হিংস্র মুখটার দিকে তাকিয়ে আছি আর মনে মনে মৃত্যুর প্রহর গুনছি। চোখ দুটো লাল টকটকে যেন এখনি আমায় দেখে ফেলবে। হটাৎ করে ভ্যাম্পায়ার টা পেছনে ফিরল। আমার তো বোঝা হয়েই গিয়েছে আজ ওর হাতেই আমার মৃত্যু। চোখের সামনে মা-বাবা, অনিন্দ্য আর প্রিয়জনদের চেহারা ভেসে উঠলো। আমি এই প্রথম এতটা ভয় পেয়েছি।
আমার সব ধারণা ভুল প্রমাণ করে ভ্যাম্পায়ারটা যেন আমাকে দেখেও না দেখার ভান করলো। ও কিছু একটা খুজতে এসেছে বুঝতে পারছি। হটাৎ করে ভ্যাম্পায়ারটা খাটের ওপর থেকে আমার ব্যাগটা তুলে নিল। এরপর সেই কাপড়ের টুকরোটা বের করল। ওইটা নিয়ে ও বের হবে সেই সময় রুমে অনিন্দ্য আসলো।
- মিতু খুব সাবধানে থাকবি কিন্তু...
অনিন্দ্যর বলা শেষ না হতেই ভ্যাম্পায়ারটা ওকে দেখে ফেললো। আর সাথে সাথেই ও অনিন্দ্যর উপর ঝাপিয়ে পড়লো। আমি আর লুকিয়ে থাকতে পারলাম না। অনিন্দ্যকে বাঁচাতে আমি দৌড়ে গেলাম। ভ্যাম্পায়ারটা হিংস্র ভাবে অনিন্দ্যর দিকে তাকিয়ে আছে। আমার কেন জানি না মনে হচ্ছিলো অনিন্দ্যর উপর ওর অনেক রাগ পুষে রেখেছে। আমি যেয়ে পাশে থাকা একটা লাঠি দিয়ে ওর মাথায় আঘাত করলাম। এতে ওর কিছুই হলো না বরং ভ্যাম্পায়ারটা রেগে আমার দিকে আসলো আর লাঠিটা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলো। সেই সময় অনেক ধস্তাধস্তির পর একপর্যায়ে ওর গলায় থাকা মালার লকেট ছিড়ে আমার হাতে চলে আসাল। একটু পর ও আমাকে ঘরের এক কোনায় ফেলে দিয়ে দ্রুত বের হয়ে গেল। আমি চোখ বড় বড় করে দরজার দিকে তাকিয়ে আছি। একটু আগে যা কিছু ঘটলো আমার কাছে সব যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। অনিন্দ্য এগিয়ে এসে আমাকে বলল,
- মিতু তুই ঠিক আছিস তো?
- হু আছি। আমাকে বিছানায় তোল তো। উঠে বসারও শক্তি নেই আমার।
অনিন্দ্য আমাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নীলকে কল করলো ফাস্ট এইড বক্স আনার জন্য। নীল কিছুক্ষনের মধ্যেই ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসলে অনিন্দ্য ওকেই বলল আমার কপালে ব্যান্ডেজ করে দিতে। আমি একটু অবাক হলাম অনিন্দ্যর এই আচরণে কারণ ও নিজে ব্যান্ডেজ না করে নীলকে কেন বলল। কিছুক্ষণ পর অনিন্দ্য আমার কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
- আমি জানি তুই নীলকে ভালবাসিস। কারণ সেই ছোটবেলা থেকে তোর মন বুঝতে পারি আমি। আর সে জন্য নীলকে রেখে গেলাম তোর সেবা করার জন্য। অনেক ভালো ছেলে ও। রাত জাগবি না একদম। ঘুমিয়ে পড়িস গেলাম আমি।
এক নিশ্বাসে অনিন্দ্য কথাগুলো বলে চলে গেল। কিন্তু কথাগুলো বলার সময় অনিন্দ্যর গলা কাঁপছিল। হাজার হোক ও আমাকে ভালবাসে আর কেও জানুক না জানুক আমি সেটা জানি। এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
খুব সকালে ঘুম ভাংতেই দেখি নীল ডাক্তারকে নিয়ে পাশে বসে আছে। ডাক্তার সব চেকআপ করে চলে গেল। কিন্তু কাল রাতে এতটা ব্যাথা পেয়েছিলাম যে জ্বর চলে আসল। নীল সারাদিন আমার সেবা করলো। মাথায় জলপট্টি থেকে শুরু করে সব কিছু করলো আমাকে সারিয়ে তোলার জন্য। নিয়ম করে সব ওষুধ খাইয়ে দিল।
বিকেলে ইন্সপেক্টর নাদিম এলেন। উনাকে দেখেই আমি কাল রাতের সব ঘটনা খুলে বললাম। উনি সবটা শুনে বললেন,
- তোমার শরীর এখন ভালো না। এসব নিয়ে এত ভাবতে হবে না। আমার স্ত্রীরও শরীর ঠিক নেই। কাল রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যেয়ে সেই কি অবস্থা। ডাক্তার এসে ওষুধ দিয়ে গেছে।
আরও কিছুক্ষণ কথা বলে উনি চলে গেলেন। নীল আবার এসে আমাকে খাবার খাইয়ে, ওষুধ খাইয়ে ঘুমিয়ে যেতে বলল। আমিও খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম আর নীলকে নিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খুব ফ্রেশ লাগছে। কাল সারাদিন নীলের যত্নের কথা মনে পড়লো। একটা অদ্ভুত ভাললাগা কাজ করছে ওর প্রতি। অনিন্দ্যর বলা কথাগুলো মনে পড়লো। মনে মনে ভাবলাম তবে কি সত্যিই আমি নীলকে ভালবেসে ফেলেছি। ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই দেখি সেই পুলিশ অফিসার হাজির। আমাকে দেখেই বললেন,
- তাহলে ভ্যাম্পায়ারটা আপনাকে ও আক্রমণ করে বসলো।
- হুম
- সে একটা মানুষকে মারতে এসে তার সাথে হেরে গেল বিষয়টা আসলেই ইন্টারেস্টিং।
- সে মারতে আসেনি।
- ওহ তারমানে আপনার সাথে তার বুঝি বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। সে জন্য দেখা করতে এসেছিলো। আরে মজা করলাম।
আমার এই পুলিশ অফিসারকে একদম পছন্দ না। তাই আর কথা না বাড়িয়ে রুমে চলে আসলাম। নীল ওনাকে বুঝিয়ে বলল যে আমার শরীর ভালো নেই তাই কথা বলতে পারব না।
একটু পরে নীল ঘরে আসতেই ওকে বললাম,
- ভ্যাম্পায়ারটা কিন্তু আমাকে মারতে আসেনি। বরং ও এসেছিল সেই কাপড়টা নিতে। কারণ ও চায়নি যে ওকে খুঁজে পাওয়ার কোন প্রমাণ আমার হাতে থাকুক।
- তা নাহয় বুঝলাম। কিন্তু ও কাছে পেয়েও কিন্তু প্রায় ইচ্ছে করেই আপনাকে ছেড়ে দিল। ও হাতের কাছে মানুষ পেয়েও তাকে আক্রমণ করে এভাবে চলে গেল কেন এটা কিন্তু একটা প্রশ্ন।
- ঠিক বলেছ তুমি। আমিও সেই কথাটাই ভাবছি।
আরও কিছুক্ষণ কথা বলার পর নীল ওর কাজে চলে গেল আর আমি টেবিলের ওপর থেকে একটা বই নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। হটাৎ করে আমার সেই লকেটের কথা মনে পড়লো। কিন্তু কোথায় রেখেছি ঠিক মনে পরছে না। টেবিলের আশে পাশে খুঁজে দেখলাম টেবিলের নিচে পড়ে আছে ওইটা। হাতে নিয়ে দেখলাম লকেট টাতে “V" লেখা। আমি মনে মনে ভাবলাম V তে মনে হয় ভ্যাম্পায়ার। কিন্তু সাধারণত লকেটে মানুষের নামের প্রথম অক্ষর থাকে। তাহলে কি ভ্যাম্পায়ারটার নামও V দিয়ে শুরু । এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ করে আমার হাত কেঁটে গেলো। আমি ফ্যালফ্যাল করে হাতের দিকে তাকিয়ে আছি। এভাবে কারণ ছাড়াই হটাৎ করে হাত কিভাবে কাঁটলো বুঝতে পারছি না। এদিকে আঙুল দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করেছে...
চলবে...