Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

ভ্যাম্পায়ার রহস্য । লেখক:- নাজিফা লুবনা। পর্ব:- ১ & ২


 ভ্যাম্পায়ারটা আজও আরেকজনের রক্ত খেয়ে রেখে গিয়েছে। সেই একই রকম অবস্থা। গলায় দুটো ফুটো করে শরীরের সব রক্ত শুষে নিয়েছে। এবার তো সকল মানুষ শহর ছেড়ে পালাবে শীঘ্রই কোন ব্যবস্থা নিতে না পারলে। ইন্সপেক্টর নাদিম এর এই কথাগুলো শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। কিন্তু ওনাকে বুঝতে দিলে চলবে না যে আমিও এই ভ্যাম্পায়ার রহস্যই খুঁজে বেড়াচ্ছি। 

আমি মিতুল। মা বাবার আদরের একমাত্র মেয়ে। ছোট থেকেই যখন যা চাইতাম মা একটু বারন করলেও বাবা ঠিক রাজি হয়ে যেতো। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল অনিন্দ্য। অনিন্দ্যর বাবা আর আমার বাবা বিজনেস পার্টনার এর পাশাপাশি খুব ভালো বন্ধুও। আর সেই জন্য ছোট থেকেই অনিন্দ্য আর আমার একসাথে বেড়ে ওঠা। অনিন্দ্য আমাকে ছোট থেকেই খুব পছন্দ করতো সেটা আমি জানতাম। আর আমাদের বাবা মা ও চেয়েছিলেন যে বড় হলে আমাদের বিয়ে দেবে। কিন্তু আমি অনিন্দ্যকে কখনোই ফ্রেন্ড এর বেশি ভাবতে পারিনি। তাই অনিন্দ্যকে এটা জানিয়ে দিয়েছিলাম আগেই। আর এতে ওরও কোন আপত্তি ছিল না। 

অনিন্দ্যর বাবা শামিম আংকেল এর খুলনাতে একটা হোটেল ছিল। আংকেল চাইছিল সেই হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে অনিন্দ্য জয়েন করুক। অনিন্দ্য যদিও আমাকে ছেড়ে অতদূর যেতে চাইছিল না কিন্তু আংকেল এর কথা রাখতে ওকে যেতেই হলো। আমি আর অনিন্দ্য দুজন দুজনকে ধরে খুব কাঁদলাম। পরের সপ্তাহে ও চলে গেল খুলনা। আমাদের নিয়মিত ফোনে কথা হতো। তবে আগের মতো একসাথে ঘুরতে পারতাম না। সে জন্য অনেক মন খারাপ হতো আমার। সেদিন রাতে হটাৎ অনিন্দ্য ফোন করে আমাকে একটা অদ্ভুত খবর দিলো। ও ফোন দিয়ে বলল, 

- মিতু জানিস একটা মজার ঘটনা ঘটেছে এখানে। এখানে সত্যিকারের ভ্যাম্পায়ার আছে। আমরা গল্পের বইয়ে যেমন পড়েছি ঠিক তেমন। 

- দেখ অনিন্দ্য একদম মজা করবি না। এসব বললেই ভাবছিস আমার মন ভালো হয়ে যাবে। মোটেও তা নাহ। 

- আরে না রে । সত্যি বলছি এখানে ভ্যাম্পায়ার আছে। আসলে আমার হোটেলটা সুন্দরবন ঘেসে বুঝলি। আজ এক সপ্তাহ হলো জংগলের পাশে প্রতিদিন কারো না কারো রক্তশূণ্য ফ্যাকাসে দেহ পাওয়া যাচ্ছে। আর ওদের গলায় দুইটা দাতের দাগ থাকে। যেন কেও দাত দিয়ে ফুটো করে ওদের শরীর থেকে রক্ত খেয়ে নেয়। 

- আচ্ছা তুই সাবধানে থাকিস কিন্তু। দেখিস সেই ভ্যাম্পায়ার আবার মেয়ে হলে তোর প্রেমে না পড়ে যায়। 

- তুই না পারিসও বটে। সবকিছু নিয়েই তোর মজা করতে হয়। আর তোর নাকি মন খারাপ হাহাহা। 

আরও কিছুক্ষণ কথা বলে ফোনটা রাখলাম। নাহ মাথা থেকে ভ্যাম্পায়ারের চিন্তা টা কিছুতেই বের করতে পারছি না। এবার ডিসিশন নিলাম যেভাবেই হোক এই ভ্যাম্পায়ার রহস্যটা ভেদ করতেই হবে। এসব ভ্যাম্পায়ার আবার বাস্তবে হয় নাকি। এসব তো শুধু গল্পেই মানায়। কিন্তু আমি সেই খুলনা যাব কিভাবে। বাবা তো কিছুতেই রাজি হবে না একা একা যেতে দিতে। এবার আমার অনিন্দ্যর কথা মনে পড়লো। ওর কথা নিশ্চয়ই বাবা না ফেলে থাকতে পারবে না। যেই কথা সেই কাজ। অনিন্দ্যকে ফোন করেই বায়না শুরু করলাম বাবাকে যেভাবেই হোক বোঝানোর জন্য। অনিন্দ্য আজ অব্দি আমার কোন বায়না ফেলে নি। এবারেও তার ব্যতীক্রম হলো না। জানি না ও বাবাকে কি বলেছিল। বাবা সন্ধ্যার পর আমার রুমে আসলো। এসে বলল, 

- মিতু তুমি নাকি অনিন্দ্যর ওখানে যাওয়ার জন্য বায়না করেছো। 

বাবার এসেই হুট করে এমন কথা শুনে আমি তো ভিষণ ভয় পেয়ে গিয়েছি। মনে মনে অনিন্দ্যকে গালি দিচ্ছি। একটা কাজ যদি ঠিক মতো করতে পারে ছেলে টা। ধুর ভাল্লাগে না। বাবা এবার বলল,

- থাক আর ভয় পেতে হবে না। অনিন্দ্য যখন দায়িত্ব নিয়ে তোমাকে ঘুরিয়ে দেখাবে এবং তোমাকে পৌছে দেবে তখন আমি আর রাজি না হয়ে পারি বল। 

আমি এতটা খুশি হয়েছিলাম বলে বোঝাতে পারব না। বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম আনন্দে। পরের দিন সকালেই আমার ট্রেন। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে বাবা আমাকে পারমিশন দিল৷ যাই হোক মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসলো। ভাবলাম যে অনিন্দ্য আমার জন্য এতকিছু করলো তাকে একটু সারপ্রাইজ দিলে কেমন হয়। সাথে সাথে অনিন্দ্যকে ফোন দিলাম। মন খারাপ করে বললাম, 

- কাল না আমার যাওয়া হবে না রে। এত কষ্ট করে তুই বাবাকে রাজি করলি আর দেখ হটাৎ করেই আমার একটা আর্জেন্ট কাজ পড়ে গেল। 

- কি এমন কাজ শুনি। যে কাজের কারণে তোর এত বড় সুযোগ টা মিস হয়ে গেল। 

- ইটস পারসোনাল অনিন্দ্য। আচ্ছা আমি রাখছি পরে কথা হবে ওকে। বাই

ফোন কেটে একটু মন খারাপই লাগলো অনিন্দ্যর জন্য। কিন্তু কাল ও যে সারপ্রাইজ টা পাবে তখন ওর আর কোন মন খারাপ থাকবে নাহ। সারারাত এসব এক্সাইটমেন্টে ঘুমই আসলো না। খুব ভোরে গুনগুন করতে করতে মা বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম স্টেশনের উদ্দেশ্যে।

 ঠিকানা খুঁজে হোটেলের সামনে এসে যখন দাড়ালাম তখন সূর্য ডুবে গেছে। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভয়ে ভয়ে হোটেলের ভেতর ঢুকছি। বারবার মনে হচ্ছে অনিন্দ্যকে একটা ফোন করি। কিন্তু তাহলে তো আর সারপ্রাইজ থাকবে না। তাই সাহস করে ভেতরে ঢুকলাম যদি বাই চান্স ওর সাথে দেখা হয়ে যায়। এসব ভাবতে ভাবতে হাটছি। হটাৎ করে কারো সাথে খুব জোরে ধাক্কা খেলাম। ধাক্কা খেয়ে আমি পড়ে যেতে লেগেছিলাম কিন্তু সে আমাকে ধরে ফেললো। আমি না তাকিয়েই খুব রেখে বললাম, 

- চোখে দেখতে পান না? নাকি ইচ্ছা করেই...

- সরি ম্যাম। আমি ইচ্ছে করে কিছু করিনি। 

আমি এবার ছেলেটির দিকে ভালো করে তাকালাম। আমার মতোই বয়সী ছেলেটা। গায়ের রঙ ধবধবে ফর্সা। চুলগুলো কোঁকড়ানো ধরনের। চোখগুলো একটু লালচে বাদামী। পরনে একটা আকাশী রঙের টি-শার্ট আর ব্লু জিন্স। ছেলেটা এতটাই সুন্দর যে এক চমকে যে কোন নারীকে সেই রূপে দুর্বল করে দিতে পারবে।

- কিরে মিতু তুই এখানে? তোর নাকি আসা হবে না বললি?

অনিন্দ্যর ডাকে আমার ঘোর কাটলো। 

- ওহ তোকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য এমনটা করলাম। 

- এটা কিন্তু একদম ঠিক করিসনি তুই। যদি রাস্তায় কোন বিপদ হয়ে যেত আমি আংকেল কে কি জবাব দিতাম। 

- আচ্ছা বাদ দে। তুই আগে বল ইনি কে?

- ওহ ও আমার অ্যাসিসটেন্ট নীল।  অসাধারণ একটা ছেলে। মুহুর্তের মধ্যে যে কাওকে আপন করে নিতে পারে। তোর সাথেও দেখবি ভাব জমিয়ে ফেলবে। 

- হুহ দেখা যাবে। এখন আমার ঘরটা দেখিয়ে দে। অনেক ক্লান্ত আমি।

মুখটা বাঁকিয়ে অনিন্দ্যর সাথে চলে আসলাম আমি। তবে অস্বীকার করব না যে এক মুহুর্তের জন্য হলেও সেই ছেলেটার রূপে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। 

রাতে ভিষণ ক্লান্ত ছিলাম। তাই তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। 

#পর্ব_২

হটাৎ কিসের যেন খসখস আওয়াজে ঘুম ভেঙে চোখ খুলতেই জানালার দিকে চোখ চলে গেল। তাকাতেই একজোড়া লাল রঙের চোখ দেখতে পেলাম। অন্ধকারে শুধু চোখজোড়াই দেখা যাচ্ছে। একটু পর হটাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেল। 

পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙতেই চলে গেলাম জংগলের দিকে। হটাৎ করেই পেছন থেকে কেও একজন ডেকে উঠলো, 

- দিদিমণি একা একা এদিকে এসেছেন কেন? আপনার কি প্রাণের মায়া নেই?

তাকিয়ে দেখলাম একজন বয়স্ক লোক। কাঁচাপাকা দাড়ি, মাথায় পাগড়ী পরে আছে। চেহারা দেখে বেশ রাগী আর তেজস্বী বলে মনে হলো আমার কাছে। আমি একটু সাহস নিয়ে বললাম, 

- কে আপনি? 

- আমি এই হোটেলের দারোয়ান নিতাই। আপনার একা একা এদিকে আসা একদমই ঠিক হয়নি। আসুন আমার সাথে। 

আমি আর কিছু না বলে ঘুরে আসলাম। এসে দেখি সেখানে অনিন্দ্য সহ আরও দুজন দাঁড়িয়ে। আমি সেখানে নীলকে খুজছিলাম। অনিন্দ্য এবার বলল,

- তুই একা একা কেন বের হয়েছিলি? তোকে তো আমি আগেই বলেছিলাম এখানকার পরিস্থিতির ব্যাপারে। এরপর থেকে যেখানেই যাবি আমাকে বলে যাবি আমি সাথে করে নীলকে পাঠিয়ে দেব। 

- আচ্ছা ঠিক আছে। 

এবার অনিন্দ্য আমার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল আমি মন খারাপ করে মাথা নিচু করে আছি। এই দেখে ও বলল,

- থাক আর মন খারাপ করে থাকতে হবে না। তোকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। একজন খাটো করে লোক যার মানু। ও এখানকার রান্নার লোক। আর ও তমাল। ঘর গোছানো থেকে শুরু করে টুকটাক যত কাজ ও করে। 

আমি বুঝতে পারলাম এখানে এরা বেশ পুরনো লোক। মনে মনে ভাবলাম এদের সাথে কথা বলে এই ভ্যাম্পায়ার এর বিষয়ে কিছু জানা গেলেও জানা যেতে পারে। সারাদিন আর ঘর থেকে বের হলাম না। ল্যাপটপটা নিয়ে ভ্যাম্পায়ার সম্পর্কিত কিছু আর্টিকেল দেখতে লাগলাম। রাতে খেতে বসে সবার সাথে বেশ ভালো মতোই আলাপ হলো। বিশেষ করে নীলের সাথে অনেক গল্প হলো। ছেলেটা আসলেই অনেক মিশুক স্বভাবের। অল্প সময়েই আমাদের ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল। 

পরের দিন সকাল সকাল উঠলাম নীলের সাথে ঘুরতে যাব বলে। নিচে যেতেই দেখি একটা অপরিচিত লোক দাঁড়িয়ে আছে। বেশ লম্বা আর মাঝবয়সী লোকটি। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, 

- তুমি তো শুনলাম নতুন এসেছো এখানে। অনিন্দ্যর ফ্রেন্ড। কিছুটা তো জানই মনে হয় এখানে যেসব ঘটনা ঘটছে। 

- হ্যা। কিন্তু আপনি কে? 

- আমি এখানকার ইন্সপেক্টর নাদিম। ভ্যাম্পায়ার নিয়ে যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে সেই কেসটা নিয়ে আমিই কাজ করছি। আর সেই বিষয়েই অনিন্দ্যর সাথে কিছু কথা বলতে এসেছিলাম। কিন্তু ও মনে হয় একটু বাইরে গিয়েছে। ফোন করছি কিন্তু নেটওয়ার্ক এর জন্য কল ঢুকছে না। 

- হুম। অনিন্দ্য আসলে আমি ওকে বলে দিব। 

- আচ্ছা সাবধানে থেকো। আর আমার বাড়ি এই কাছেই। অনিন্দ্যকে নিয়ে ঘুরতে যেও সময় করে। আমার স্ত্রীও বেশ খুশি হবে তোমরা আসলে।  

- আচ্ছা ঠিক আছে। 

ইন্সপেক্টর চলে গেলে আমি আবার নীলকে খুজতে লাগলাম। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেলাম না। বাকী সবাইকে পেলাম কিন্তু সবাই যার যার নিজের কাজে ব্যস্ত। একা একা বের হওয়াও নিষেধ। তাই মন খারাপ করে রুমে চলে আসলাম। বিকেলে অনিন্দ্যকে বলতেই রাজি হয়ে গেল ইন্সপেক্টরের বাড়ি যেতে। অনিন্দ্য নীলকেও সাথে নিতে চাইল। আমিও বেশ খুশি হলাম ওর যাওয়ার কথা শুনে।

বিকেলে আমি, নীল আর অনিন্দ্য ইন্সপেক্টর নাদিম এর বাড়িতে গেলাম। উনি আর ওনার স্ত্রী বেশ যত্ন করে আমাদের বসালেন। খুব দ্রুতই চা নাস্তার ব্যবস্থা করলেন। ওনার স্ত্রী বেশ ছোটখাটো মানুষ ওনার তুলনায়। তবে বেশ রূপবতী মহিলা। এবার ইন্সপেক্টর নাদিম বললেন,

- এবার তাহলে আসল কথায় আসি। দিনদিন তো এই ভ্যাম্পায়ারের উপদ্রব বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত এগারো জন মানুষ মারা গিয়েছে। ভয়ে তো মানুষ রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ায় বন্ধ করে দিয়েছে।  

আমি এবার বেশ অবাক হয়ে বললাম, 

- হতে পারে অন্য কোন জীবজন্তু। এটা যে ভ্যাম্পায়ার এতটা সিওর হলেন কেমন করে? 

- কারণ আছে। যারা মারা গিয়েছে সবার গলায় দুটো করে ফুটো পাওয়া গিয়েছে। আর ওদের শরীর রক্তশূণ্য হয়ে পড়ে ছিল। 

আমার কিছুতেই বিশ্বাস বিশ্বাস হচ্ছেনা এই ভ্যাম্পায়ার এর বিষয়টা। এসব তো কেবল গল্প উপন্যাসে মানায়। বাস্তবে কিভাবে সম্ভব। নিজে নিজেই বললাম,

- কিভাবে সম্ভব এটা?

উনার স্ত্রী আমার কথা শুনে বললেন, 

- আমাদের কারোরই শুরুতে বিশ্বাস হয়েছিলো না। তবে সবারই পোস্ট মর্টেম করা হয়েছে। আমি নিজেও রিপোর্ট দেখেছি। ওই রকম করে গলায় ফুটো করে রক্ত চুষে নেয়া ভ্যাম্পায়ার ছাড়া আর কিসের কাজ হতে পারে। 

অনিন্দ্য আর নীলও উনার সাথে একমত হলেন। অনিন্দ্যকে দেখে মনে হলো সামান্য ভয়ও পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার তখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। ছোট থেকেই অনেক সাহসী আমি। রাতের বেলা হুটহাট করে বের হয়ে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে চ্যালেঞ্জ করে ভূতবাংলোতে যাওয়া কোন কিছুই বাকি রাখিনি আমি। তাই ভ্যাম্পায়ারের ব্যাপারটাতেও  আমি মোটেও ভীত হলাম না। বরং একটা আগ্রহ চেপে বসলো। এবার আমি ইন্সপেক্টর কে বললাম, 

- আচ্ছা আপনি কি কখনো দেখেছেন সেই ভ্যাম্পায়ার কে?

- নাহ আমি দেখিনি। অবশ্য তেমন কেওই দেখেনি। তবে আমার জানা মতে একটা ছেলে আছে যে দেখেছিল। 

- ঠিক আছে। আপনি আমাকে ওর সাথে দেখা করতে নিয়ে যাবেন। 

- অবশ্যই। তবে তুমি নীলকে নিয়ে যেতে পারো। কেননা নীলদের বাড়ির ওখানেই ওদের বাড়ি।

আমি নীলের দিকে তাকাতেই নীল বলল,

- হ্যা উনি ঠিকই বলেছেন। ওর নাম শান্ত। এলাকার সবাই বলে যে ও নাকি দেখেছিল সেই ভ্যাম্পায়ার কে। জানি না কতটা সত্যি আর কতটা মিথ্যা। 

- তুমি কালকেই আমাকে নিয়ে যাবে ওর কাছে। 

- ওকে

এবার ইন্সপেক্টর নাদিম বললেন, 

- অনেক কথা হলো। আমার মনে হয় এবার তোমাদের ফিরে যাওয়াই ভালো। অনেকক্ষন আগেই সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। রাত হলে আবার বিপদ হতে পারে। 

আমরা ফিরে আসলাম। আমি এসেই দারোয়ান নিতাইকে জিজ্ঞেস করলাম, 

- আপনি কি ভ্যাম্পায়ার এর বিষয়ে শুনেছেন? 

- হ্যা কিছুটা শুনেছি। 

- তবে আমাকে এটা বলুন যে আপনি তো সারারাত হোটেল এর বাইরে পাহারা দেন। আপনার ভয় করে না? তেমন কিছু কি দেখেছেন কখনো? 

- নাহ তেমন কিছু দেখিনি। শুনেছি যে ওরা রাতের বেলা ঘুরে বেড়ায়। মানুষ দেখলেই তাদের ধরে রক্ত খেয়ে ফেলে রাখে। ভয় তো লাগেই। কিন্তু কি করবো পেটের দায়ে কাজ করি। কাজ না থাকলে যে বউ বাচ্চা না খেয়ে মরবে। 

- হুম বুঝেছি। ঠিকাছে যাও তুমি। 

রাতে ডিনার করে এসে শুয়ে আছি। মাথা থেকে ভ্যাম্পায়ারের চিন্তাটা কিছুতেই যাচ্ছে না। ঘরের সাথে একটা বারান্দাও আছে জংগলের দিকটায়। বারান্দায় যেয়ে কিছুক্ষন দাড়ালাম। হটাৎ করে প্রথম দিন রাতের কথা মনে হলো। একটু ভয় করল কেন জানি না। আবার ঘরে চলে আসলাম। কে যেন দরজায় নক করছে।

- কে? 

- আমি তমাল। 

দরজা খুলে বললাম, 

- কিছু বলবে? 

- হ্যা। বলতে এসেছিলাম যে রাতে দরজা জানালা ভালো করে লাগিয়ে শোবেন। দিনকাল কিন্তু ভালো যাচ্ছে না। রাতে ঘর থেকে বের হবেন না। আর বারান্দায়ও যাবেন না। 

- ঠিক আছে। তুমি এখন যাও। 

তমাল চলে যেতেই আমি শুয়ে পড়লাম। আর শোয়ার সাথে সাথেই চোখে রাজ্যের ঘুম নেমে এল। ঘুম এর মধ্যে একবার মনে হলো কিসের একটা আওয়াজ হলো। কিন্তু ঘুম খুব গভীর ছিল তাই উঠে মনে হলো হয়তো স্বপ্ন ছিল। এই মনে করে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। 

পরের দিন সকালে অনেকের চেচামেচির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল। নিশ্চয় কিছু একটা হয়েছে। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই নীল ছুটে এসে বলল,

- ম্যাম সর্বনাশ হয়ে গেছে। 

- কি হয়েছে? 

 চলবে...

ভ্যাম্পায়ার রহস্য 

-নাজিফা লুবনা

পর্ব_১_ও_২

ভ্যাম্পায়ার রহস্য । লেখক:- নাজিফা লুবনা। পর্ব:- ১ & ২
ভ্যাম্পায়ার রহস্য । লেখক:- নাজিফা লুবনা। পর্ব:- ৩ & ৪
ভ্যাম্পায়ার রহস্য । লেখক:- নাজিফা লুবনা। পর্ব:- ৫ & ৬ শেষ পর্ব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code