--বাসায় এসে দেখি পুরো বাড়ি অন্ধকার!আর সাজিয়া কোথাও নেই।সারা বাড়ি খোঁজ করলাম,কিন্তু সাজিয়াকে কোথাও দেখতে পেলাম না।দৌড়ে ছাদে চলে গেলাম।সেখানে গিয়ে যা দেখলাম,তাতে তো আমার হুঁশ এই উড়ে গেলো!সাজিয়া দাঁড়িয়ে আছে।আর তার পাশে দেওয়ালের উপরে মদের বোতল রাখা।
এই সাজিয়া কি করছো কি তুমি?
--চোখ নেই তোমার?দেখছো না কি করছি।চোখে দেখতে পেয়েও কেনো প্রশ্ন করো?
--সাজিয়া,কি সব উল্টা-পাল্টা শুরু করেছো তুমি?
মদের বোতল কেনো এখানে?
--কিসের উল্টা-পাল্টা হা?তুমি যদি মদ খেতে পারো তাহলে আমি কেনো পারবো না।তাই ফ্রিজ থেকে তোমার মদের বোতল নিয়ে এসেছি আমি।
--সাজিয়া ফালতুগিড়ি একদম বাদ দাও।
--এই,এই কিসের ফালতুগিড়ি হা?
মানুষের বেলায় ফালতুগিড়ি।নিজের বেলায় কিছু না?
--আমি কি করেছি?
--তুমি খেতে পারলে আমি কেনো পারবো না?
আমি কি মানুষ না নাকি?যে আমার পেটে এসব হজম হবে না!
--সাজিয়া,অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!
--বাড়াবাড়ি আমি না তুমি করছো।ভালোই ছিলাম আমি।কিন্তু তুমি থাকতে দিলে না।এত ভালোবাসার পরেও অন্যের হাত ধরতে চলেছো।তো কি দাম রইলো আমার এত ভালোবাসার?
--দেখো,সেটা ভিন্ন বিষয়।কিন্তু তুমি এখন যেটা করছো,সেটা কিন্তু একদম বাজে কাজ।
--কিসের ভিন্ন বিষয় হা?আমার জীবন নড়ক বানিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিস,আবার এখানে এসে জ্ঞান দিচ্ছিস হা?যা সামনে থেকে তুই আমার।অই মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু কর।আর ডিভোর্সের কাগজ রেডি কর।তোকে আমি মুক্ত করে দিব।অনেক কষ্ট পেয়েছি জানিস।যা কখনো মুখ ফুটে বলিনি।চুপ করে সংসার করে গেছি তোর সাথে।কিন্তু তুই সেটার দাম এই ভাবে দিলি!অন্য মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলিস আমার সামনে।
--সাজিয়ার মুখে ডিভোর্সের কথা শুনে ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো!কিন্তু কেনো এমন হলো,সেটা আমি জানি না।আরেহ,আমার তো খুশি হওয়ার কথা।যেখানে সাজিয়া নিজ ইচ্ছায় আমায় ডিভোর্সে দিবে বলেছে।সেখানে মন খারাপ করার কি আছে।কিন্তু তাও কেনো জানি ভিতরটা খা,খা করছে!কেমন ধরনের যেনো একটা অস্থিরতা কাজ করছে ভিতরে!ঘোরের মধ্যে চলে গেলাম।কেমন ঘোর,সেটা নিজেও জানি না।আর কোনো কথা বললাম না।ঠুসসস করে সাজিয়াকে কোলে তুলে নিলাম।আমি কি করছি,আমার কোনো সেন্স নেই!
সাজিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে রুমে চলে আসলাম।
--এই তুই আমাকে এখানে আনলি কেনো?
আমি মদ খাবো বলেছি না।
--না তুমি কিচ্ছু খাবে না।আর ওসব ছাইপাঁশ আমি তোমায় খেতে দিব না।
--জীবনটাই তো বরবাদ,সেখানে সাময়িকের জন্য ছাইপাঁশ খেলে কিছুই হবে না।
--চুপ একদম,আর একটাও কথা বলবা না।
সাজিয়াকে চুপ করিয়ে দিয়ে ওর ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নিলাম।সাজিয়া আর কোনো কিছু বললো না।আমাকে চুমু খেতেও বাঁধা দিলো না।আমি চুমু খেয়েই চলেছি।কতটা সময় সাজিয়ার ঠোঁটের নেশায় ডুবে ছিলাম,তা সঠিক বলতে পারবো না।হটাৎ এই ফোনটা বেজে উঠলো।পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি ফাহমিদা ফোন করেছে।সাথে সাথে সাজিয়াকে ছেড়ে দিয়ে অন্যরুমে চলে আসলাম।
--স্যার কি করছেন?
--তৎক্ষনাৎ সাজিয়ার কথা মনে পড়লো।আল্লাহ এত সময় কি সব করছিলাম আমি!
--স্যার কথা বলছেন না যে?
--ফাহমিদার কথায় হুঁশ ফিরে আসে।
আরেহ দাঁড়িয়ে আছি।তুমি?
--ওহ,আমিও সেম।
--ফাহমিদার সাথে অনেকটা সময় কথা বললাম।সাজিয়ার কথা ভুলেই গেছি বলতে গেলে আমি।ওকে যে বিছানায় শুইয়ে রেখে আদর করছিলাম,সে যে এখনো শুয়ে আছে,সেসব কিছুই মাথা থেকে সরে গেছে আমার।ফাহমিদার সাথে কথা শেষ করলাম।পরক্ষণেই মনে পড়লো সাজিয়ার কথা।রুমের দিকে চলে গেলাম।গিয়ে দেখি সাজিয়া ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না করছে।
সাজিয়া কি হয়েছে?
--কিছুই হয়নি।
--তো কান্না করছো কেনো?
আর মানুষ তো এমনি এমনি কাঁদে না।কিছু তো একটা হয়েছে।
--আজ আমার থেকে অন্যকারো গুরুত্ব বেড়ে গেছে তোমার কাছে।এই যে দেখো চোখের পানি!
তোমাকে চোখের সামনে পেয়ে কান্না করছি।তুমি তো আমার কান্নাটা দেখছো হলেও।কিন্তু এমন একটা সময় হবে,যখন তুমি হামাগুড়ি দিয়ে কান্না করবে।আর বলবে,মানুষটাকে কেনো গুরুত্ব দিলাম না।সেদিন আমায় আর পাবে না।শত আফসোস করলেও সেদিন তোমার পাশে কেউ থাকবে না।কথা গুলো নোট করে রাখিও।সময়ে কাজে আসবে।
--চুপ করে আছি সাজিয়ার কথা শুনে!কোনো কথা বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে।সাজিয়া কি সব বললো এখন!
কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম।এরপর আর সাজিয়ার মুখোমুখি হলাম না।কারন কোনো এক অজানা শক্তি আমায় লজ্জায় ফেলছিলো বারবার।
রাতের বেলা খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি দশটা বাজে।মাথা তো পুরো ঘুরে উঠলো!কিরে দিনের বাজে দশটা,সাজিয়া আমায় অফিসের জন্য ডাকলো না কেনো!আর ওর কোনো সারা শব্দ ও পাচ্ছি না।রুমে গিয়ে দেখি তো কি হয়েছে আজ ওর।
যেই রুমে সাজিয়া ঘুমায়,সেখানে চলে গেলাম।গিয়ে দেখি সাজিয়া ফ্লোরের উপরে পড়ে আছে।নাক মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে ওর।এটা দেখে দুনিয়াদারী যেনো মিনিটের মধ্যেই পাল্টে গেলো আমার।দৌড়ে সাজিয়ার কাছে গেলাম।পাশেই বিষের বোতল টা পড়ে আছে।সাজিয়ার মাথাটা ধরে কোলে উঠালাম।সাজিয়া তুমি এটা কি করলে?সাজিয়া কোনো উত্তর দিচ্ছে না।
হটাৎ এই সাজিয়ার হাতের দিকে নজর গেলো।হাতের মধ্যে কাগজের মতন কিছু একটা শক্ত করে ধরে রেখেছে।হাত থেকে কাগজটা নিয়ে খুলে দেখলাম,কি লেখা এতে।কাগজে বড় বড় অক্ষরে লিখা"মুক্ত করে দিলাম আকাশ তোমায়"!এরপর আর কোনোদিন তোমায় কেউ জ্বালাবে না।সাজিয়া নামক পথের কাটাটা তোমার জীবন থেকে চিরতরে বিদায় নিয়ে চলে গেছে।ফাহমিদাকে নিয়ে শুখে থেকো"আলবিদা"!
আর কিছু লেখা নাই।লেখাটা পড়ে মুহুর্তের মধ্যেই অস্থির হয়ে পড়লাম।এসব কিছু সহ্য করার মতন ক্ষমতা যেনো আমার নাই।সাজিয়াকে জড়িয়ে ধরে সজোরে এক চিৎকার মেরে কেঁদে উঠলাম...!
চলবে...?
ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।
এক ধোঁয়াশা মানব সকল পর্বের লিংক নিচে 👇

0 মন্তব্যসমূহ