Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

ধোঁয়াশা মানব , পর্বঃ ২ , কলমে: আকাশ মাহমুদ ,



 --আজকে আরো বিদঘুটে লাগছিলো লোকটাকে!আজো সেই আন্ডারওয়্যার,তবে শরীরটা কোনে কিছু নেই।মাথার মধ্যে পাগড়ির মতন করে কিছু একটা পেঁচিয় রেখেছে।পায়ের নিচ থেকে যেনো মাটি সরে গেলো আমার!সাজিয়া আমি বাসায় উপস্থিত থাকা সত্বেও অন্য পুরুষ এনেছে!এটা যেনো আর মানা যাচ্ছে না।নাহ,সাজিয়াকে জিগ্যেস করা দরকার।বের হোক সে ওয়াশরুম থেকে।

অপেক্ষা করছি সাজিয়ার জন্য।একটু পর সে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলো।
সাজিয়া,আমি বাসায় থাকা সত্বেও সেই লোকটাকে আজ তুমি বাসায় নিয়ে এসেছো?তোমার রুচি এতটা নিচে নেমে গেছে?
--আকাশ,কি সব বলছো উল্টা-পাল্টা!
কাকে ঘরে নিয়ে এসেছি আমি?
--সেটা আমাকে কেনো জিগ্যেস করছো।কাকে নিয়ে এসেছো,সেটা আমার থেকে তো তুমি ভালো জানো।
--তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে আকাশ!তুমি কাল থেকে উল্টা-পাল্টা বকাবকি করছো!
--সাজিয়া,আমায় পট্টি পড়াবে তুমি?
তোমার কি মনে হয় আমি দুধের বাচ্চা?
কাল ও সেই লোকটা আমার বাসা থেকে বের হয়েছে।আজ তো নিজের চোখে দেখলাম।
--আমি জানি না,তুমি কাকে দেখেছো।তবে আমি কাউকে বাসায় আনি নি।আমার বাসায় পুরুষ থাকতে অন্য লোক কেনো আনতে যাবো আমি?এমন কোনো দরকার এই পরে নাই আমার।আর তাছাড়া আমার চরিত্র এখনো এতটা নিচে নামেনি।সো উল্টা-পাল্টা বলা বন্ধ করো।
--হা,এখন তো আমি উল্টা-পাল্টা বলছি!তাহলে এত রাতে গোসল করার মানে কি?আর ঘরের মেইন দরজা কেনো খোলা ছিলো?
--আমার ঘুম আসছিলো না,তাই দরজা খুলে বসে ছিলাম।আর কেমন যেনো অস্থির ও লাগছিলো গরমে,তাই গোসল করেছি।
--বাহ,বাহ,বেশ ভালোই তো মিথ্যে বলতে শিখে গেছো!
--আমি মোটেও মিথ্যা বলছি না।
--সেটা আমি বুঝে গেছি,যে তুমি সত্যি বলছো কি মিথ্যা! একটা কথা বলি সাজিয়া তোমায়।তোমার যদি আমার সাথে থাকতে ইচ্ছে না হয়,তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দাও।কিন্তু এভাবে অশ্লীলতা করিও না ঘরের মধ্যে পুরুষ এনে।
--সেটআপ আকাশ!
কখন থেকে দেখছি যা তা বলছো!কাকে দোষ দিচ্ছো তুমি হা?নিজে ঠিক আছো তুমি?অফিসে যেই মেয়েটা জব করে ফাহমিদা নামের।ওকে আর তোমাকে নিয়ে তো অনেক কথাই কানে আসে।আমি তো কখনো আঙ্গুল তুলিনি এসব নিয়ে!কিন্তু তুমি কেনো আঙ্গুল তুলছো,যেটা আমি করিও নি,সেটা নিয়ে?
--সাজিয়া জবান এসে গেছে তোমার!ফাহমিদার সাথে আমার কিছুই নেই।
--তা আমি জানি,আছে কি নেই।লোক মুখে অনেক কথাই শুনি।আর এখন বিশ্বাস ও হচ্ছে,তোমার কথাবার্তার দাঁড়া।আমায় দূর করে দিয়ে সেই মেয়েকে ঘরে তুলবে,এটাই তো তোমার মূল মাকসাদ?
--থাপড়ে গাল লাল করে ফেলবো একদম সাজিয়া।মুখ সামলে কথা বলবি বলে দিলাম।
--এখন তো শাসাবাই।কারন সত্যটা কেউ হজম করতে পারে না।বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না,যে হক কথায় হাজি সাহেবের মুখ খারাপ।তোমার জন্য প্রবাদটা মিথ্যা কেনো হবে।
--তোমার মত গায়ে পড়া মেয়েকে বিয়ে করে জীবনটাই বরবাদ করে দিলাম আমি!
--সেম কথা আমিও বলতে পারি আকাশ।
তোমাকে বিয়ে করে আমিও নিজের জীবন নষ্ট করে দিয়েছি।
--সাজিয়া,তোমায় আর কিছু বলার নেই।
তবে এটুকুই বলবো,আজ খুব বড় বড় কথা বের হচ্ছে মুখ দিয়ে।যেদিন হাতে নাতে ধরবো,সেদিন কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে।মনে রেখো...
চলে আসলাম নিজের রুমে।
ওর মতন মেয়ের সাথে আর কোনো কথা বলার ইচ্ছে নেই আমার।স্বামীর মুখের উপরে তর্ক করে।আবার স্বামীকেই মিথ্যে বানানোর ফন্দি আঁটে।আমার নিজের চোখে দেখা জিনিসকে ভুল বলে।কত বড় খারাপ হলে এমন করতে পারে সে!ওকেহ সমস্যা নাই।আমাকে মিথ্যে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে তো।যেদিন হাতে নাতে ধরবো,সেদিন তোকে জবাই করে দিব।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে সাজিয়ার সাথে সম্পর্ক হওয়ার প্রথমকার সময়ের কথা গুলো ভাবছিলাম।ভাবতে ভাবতে বর্তমানে চলে আসলাম।তখনি ঘৃণা টা আরো বেড়ে গেলো।তুই আমায় রেখে অন্য পুরুষ ধরেছিস তো,তাহলে এবার দেখবি আমার খেলা।ফাহমিদাকে নিয়ে কি কি করি আমি।ওকেই বিয়ে করবো তোকে ডিভোর্স দিয়ে।ঘুমিয়ে গেলাম।
--সকাল বেলায়..
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।সাজিয়া টেবিলে নাস্তা সাজিয়ে রেখেছে।উঠ নাস্তা করে নিলাম।আজ আর সে আমায় ডাকেনি।নাস্তা করে অফিসে চলে গেলাম।সাজিয়ার সাথে এক ফোটা কথাও বলি নি যাওয়ার সময়।থাকুক সে ওর মতন।অফিসে পৌঁছে ফাহিমকে কেবিনে ডাকলাম।
--স্যার আপনি আমায় ডেকেছেন?
--হা,তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।
--জ্বি স্যার বলুন?
--ফাহমিদা,দুনিয়া তোমাকে আর আমাকে নিয়ে অনেক কিছুই বলছে।আমার বিয়ে করা স্ত্রী,সাজিয়াও তোমাকে আর আমাকে একত্রে করে খারাপ কথা শুনিয়েছে গতকাল।যে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক।তোমাকে ঘরে তুলতে চাই আমি।
--স্যার,হটাৎ ম্যাডাম আমায় নিয়ে এসব কেনো বলেছেন?
--কারন,তার আর আমার সাথে সংসার করার ইচ্ছে নেই।সে অন্য কাউকে পেয়ে গেছে।তাই সে আমার থেকে মুক্তি চায়।
--ওহ,,,
--ফাহমিদা,তুমি কি আমায় বিয়ে করবে?
--স্যার কি বলছেন এসব?ম্যাডাম তো এখনো আপনার সাথেই সংসার করছে।তারপেরও আমি বিয়ে করবো মানি?
--সাজিয়াকে আমি ডিভোর্স দিয়ে দিব।তারপর তোমায় বিয়ে করে নিব।তুমি কি আমায় বিয়ে করবে?বা এতে কি তোমার কোনো আপত্তি আছে?
--স্যার আপনি যখন খোলাসা ভাবে আমায় বলেছেন বিয়ে করবেন।তাহলেও আমিও খোলাসা ভাবে কিছু কথা বলি।লোক মুখে আমাকে আর আপনাকে নিয়ে নানান কথা আমিও শুনেছি।নানান রকম কাহিনী রটিয়েছে মানুষ আমাকে আর আপনাকে নিয়ে।তাও আমি কিছু বলিনি।কারনটা আপনি ভালো করেই জানেন,যে আমি আপনাকে ভালোবাসি।আর সবাই চায় নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে পেতে।আমিও সেটা চাই।আপনি যদি ম্যাডামকে ডিভোর্স দিয়ে আমায় বিয়ে করেন,তাহলে এতে আমার কোনো আপত্তি নাই।
--ওকেহ,তাহলে তুমি রাজি?
--হ্যা...
--তাহলে রেডি হয়ে থেকো।আজ রাতে তুমি আমার বাসায় খাবার খাবে।
--আচ্ছা...
--অফিস শেষ করে ফাহমিদাকে নিয়ে বাসায় চলে এলাম।সাজিয়া ফাহমিদাকে দেখে তো সেই খেপে গেছে!
--এই মেয়ে,তুমি এখানে কেনো?
--স্যার আমায় নিয়ে এসেছেন উনার সাথে।আজ রাতের খাবারটা উনার সাথে খেতে বলেছেন।
--আকাশ বলবে দেখে কি তুমি আসবে নাকি?
তোমার কি কোনে আক্কেল নেই?বলা কওয়া ছাড়া অন্যের বাসায় এসে পড়ো।
এমন সময় গাড়ি রেখে আকাশ বাসায় আসে।
--এই তুমি ওকে কেনো বাড়িতে নিয়ে এসেছো?
--আমার সাথে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য।
--না,এই মেয়ে আমার বাসার কোনো খাবার খেতে পারবে না।ওকে চলে যেতে বলো।
--তোমার বাসার খাবার মানে?
--তোমার সংসার করছি,তার মানে বাসাটা তো আমারো নাকি।
--হা,হা,আমার সংসার করছো হা তুমি?
আমার খেয়ে অন্যকে খুশি করছো।এতে কোন দিকে আমার সংসার করছো তুমি?
--আকাশ আবার শুরু করেছো তুমি ওসব কথা?
--শুরু করি নি,তোমার কারনে শুরু করতে হয়েছে।এখন সাইড দাও আমাদেরকে।
--না আমি সাইড দিব না।এই মেয়ে বাসায় ঢুকতে পারবে না।
--থাপড়ে একদম গাল লাল করে দিব!কত বড় সাহস তোর!তুই ফাহমিদাকে ঘরে ঢুকতে দিবি না বলিস!আজ বাদে কাল সে এই ঘরের কেউ একজন হবে।আর তুই তাকেই ঘরে ঢুকতে দিবি না বলছিস।
--মানে বুঝলাম না।
--মানে হলো,তোকে আমি ডিভোর্স দিয়ে ফাহমিদাকে বিয়ে করবো।
--আকাশের কথা শুনে কলিজার পানি যেনো সমস্তটা শুখিয়ে গেছে!কি বললো সে এটা!আমি তো ওর দেখাশোনায় কোনো কমতি রাখিনি।তাও কেনো সে আমায় ডিভোর্স দিবে!ভিতর থেকে বুক ফেটে কান্না আসছে!
--এই তুই রাস্তা ছাড়বি,নাকি থাপ্পড় খাবি?
--চুপচাপ সরে গেলাম।
একটা শব্দ ও বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে!একটু আগে আকাশ আমায় কি শুনালো!এটা শোনার আগে তো আমার মরে যাওয়া ভালো ছিলো।সেখানেই বসে কান্না করতে লাগলাম।আর আকাশ পাষাণের মতন ফাহমিদাকে নিয়ে ঘরে ঢুকে গেলো।
--ফাহমিদা,সরি আসলে ওর আচরণে।
ও যে এমন বেয়াদবের মতন আচরণ করবে,সেটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।
--আরেহ স্যার কি বলছেন এসব!আপনি তো কিছু করেন নি।যা করেছে উনি করেছে।প্লিজ আপনি আর নিজেকে ছোট করবেন না।
--ফাহমিদা,তুমি আসলেই ভালো মনের মানুষ।সাজিয়ার সাথে বিয়ে না হয়ে যদি বিয়েটা তোমার সাথে হতো আমার,তাহলে আজ আমার এত কষ্ট ভোগ করতে হতো না।
--স্যার বিয়ে তো করবেন এই আমাকে।এবার প্লিজ আর ওসব কিছু বলিয়েন না।
--আচ্ছা,
তারপর ফাহমিদার সাথে গল্প করতে আরম্ভ করলাম।সুখ,দুঃখের অনেক আলাপ করেছি তার সাথে।মেয়েটা খুব ভালো।আমায় অনেক ভালো করে বুঝে সে।গল্প শেষ করে দুজনে মিলে খেয়ে নিলাম।সাজিয়া এর মধ্যে আর আমার রুমে আসেনি।খাওয়া শেষ করে ফাহমিদাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসলাম।বাসায় এসে দেখি পুরো বাসা অন্ধকার।কেমন ছমছমে একটা পরিবেশ তৈরী হয়ে আছে।হয়তো সাজিয়া ঘরের সমস্ত লাইট অফ করে রুমে শুয়ে আছে।
ধুর যা হবে হোক।নিজের রুমে চলে গেলাম।
গিয়ে লাইট অন করে ফোনটা চার্জে লাগিয়ে দিলাম।তারপর হাত মুখ ধুতে চলে গেলাম।হাতমুখ ধুয়ে এসে ঘুমানোর প্রিপারেশন নিচ্ছি।পানির তৃষ্ণা পেয়েছে।টেবিলে থাকা মাম পট টা হাতে নিয়ে দেখি পানি শেষ হয়ে গেছে।মাম পট টা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম পানি পুরানোর জন্য।হটাৎ এই দেখি আন্ডারওয়্যার পড়া সেই লোকটা সোফা থেকে উঠে ঘরের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলো।সাথে সাথে দৌড়ে লোকটার পিছু নিলাম।কিন্তু গত দুই দিনের ন্যায় লোকটা আজ ও লাপাত্তা হয়ে গেলো।লোকটাকে আর দেখতে পেলাম না।আমার মাথায় এই কাজ করছে না!যে লোকটা বাসায় আসে কখন,আর বাসা থেকে বের হয়ে কোথায় যায়,যে এরপর আর লোকটার কোনো হদিশ পাওয়া যায় না।গায়েবি শক্তি আছে নাকি কোনো লোকটার কাছে!ধ্যাঁত আমি কি সব ভাবছি!
হাজারটা প্রশ্ন মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম।এসে মাম পটে পানি পুরিয়ে নিলাম।তারপর রুমে চলে এলাম।সাজিয়া আজ ও লোকটাকে বাসায় এনেছে,এটা ভাবলেই কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠলো!সাজিয়া আমায় রেখে অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়া করছে!ঘৃণার মাত্রাটা আরো কয়েকধাপ বেড়ে গেলো।
নাহ,কাল থেকে আমিও নষ্টামি করবো।ফাহমিদাকে নিয়ে একই খাটে শুয়ে থাকবো।আমি চাইলে সাজিয়ার গায়ে হাত তুলতে পারি এই সবের কারনে।কিন্তু এটা আমি করবো না।কারন মেয়েটাকে আমি খুব ভালোবাসি।সে যদি আমায় রেখে অন্য কাউকে নিয়ে সুখে থাকতে পারে,তাহলে থাকুক।আমার কোনো আপত্তি নেই।শুয়ে পড়লাম।
ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম পুরোপুরি।হটাৎ এই দেখি,রাত তিনটার দিকে আমি আর নিশ্বাস নিতে পারছি না।আমার দম আটকে আসছে।হাত,পা বিছানায় ছুটাছুটি করছি।কোনো রকমে চোখ মেলে তাকালাম।তাকিয়ে দেখি,সাজিয়া আমার মুখে বালিশ দিয়ে চাপা দিয়ে ধরেছে।এটা দেখে চোখ জোড়া সোজা কপালে উঠে গেলো...!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code