গল্প- #আত্মা_নাকি_সে ?? (পর্ব -০৭)
লেখক- Riaz Raj
-------------------------
রাত প্রায় ৩ টা নাগাত,এই গভীর রাতে, নিঝুম রেল স্টেশনের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ৫ টা প্রান। ৪ জন মেয়ে,আর ১ টি বাচ্চা ছেলে।দোকানটাও যেনো অদ্ভুত ভাবেই উধাও হয়ে যায়। সবাই নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।বাচ্চা ছেলেটি লোহার দন্ডটা এখনো ধরে আছে রিয়ার যৌনিতে। বাকি ৩ জন হা করে দাঁড়িয়ে আছে।পরিবেশ নিস্তেজ হয়ে গেছে।শনশন করে ঠান্ডা বাতাস ধীর গতিতে বেয়ে চলছে। এবার কি হবে....?
হয়েছে বা কি।রিয়ার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে।মায়া,প্রিয়া আর সামিয়া হা করে তাকিয়ে আছে।ওরা নিজের স্তান থেকে নড়তে পারছে,সে শক্তিটাও ওরা হারিয়ে ফেলে কোনো এক অজানা মায়ায়।চোখের পলকেই আচ্চা ছেলেটি এক দৌড়ে পালিয়ে যায়।বাতাসের গতিতে বাচ্চাটি হারিয়ে যায় ঝাপসা অন্ধকারের মধ্যে। এবার মায়া, প্রিয়া আর সামিয়া নিজেদের মধ্যে পিরে আসে।হতভাগ আর দাঁড়িয়ে না থেকে দৌড়ে গিয়ে রিয়াকে ধরে। রিয়ার যৌনি থেকে অনেক বেশিই রক্ত ঝরছে।মায়া জোরে চিৎকার মারতে মারতে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সাথে প্রিয়া আর সামিয়াও কান্না করতে থাকে। এখন প্রশ্ন, রিয়ার কাছে তাবিজ ছিলো, তবে রিয়াকে স্পর্শ করেছে কিভাবে একটা অশরীরী। তাছাড়া ওদের জানামতে বাচ্চাটি একটি মেয়ে,এখানে ছেলে আসলো কোথা থেকে।রহস্যাবৃত হয়ে আছে সবকিছু।
ওরা রিয়াকে কোলে নিয়ে অনেক্ষন কান্না করলেও বেশিক্ষন সেখানে থাকা সুবিধের ঠেকেনি। ওরা রিয়ার লাশ সেখানেই ফেলে চলে আসে গাড়িতে। ডান বাম না তাকিয়ে নোয়াখালী সেই কবিরাজের কাছে যেতে লাগলো। মায়া ড্রাইভিং করলেও কান্না করতে করতে হতাশ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষন পর সামিয়া আবার গাড়ি চালায় এবং তারপর প্রিয়া। অবশেষ তারা পৌছে যায় সেই কবিরাজের বাড়িতে। বাড়ির সামনে এসে প্রিয়ার ডাক।)
-- বাড়িতে কি সুমন ভাই আছেন..?
--- ( কোনো সাড়াশব্দ নেই)
--বাড়িতে কেও আছেন..? প্লিজ একটু বের হয়ে আসুন,আপনার সাথে একটু কথা আছে।
( একটু পর খটখট করে দরজা খোলার শব্দ শুনতে পায় তারা। দরজা খুলে এক বৃদ্ধস্য লোক বের হয়ে আসে ভিতর থেকে। মায়া, প্রিয়া আর সামিয়া উনার দিকে তাকি আছে।লোকটি অনেকটাই বৃদ্ধ। উনি আবার তাদের হেল্প করবে? ভাবতেই মনে মনে হাসতে থাকে প্রিয়া)
-- এই মেয়ে, আমি দেখতে বৃদ্ধ হতে পারি।তবে আমার ভিতর এখনো সেই শক্তি আছে,যে শক্তি বর্তমান যুগের একটা ২০ বছরের ছেলের মধ্যেও নেই।
( বুড়োর কথা শুনে ওরা তিন জনই চমকে যায়। প্রিয়া অবাক হয়ে গেছে,ওর মনের কথা উনি বুঝতে পেরেছে কিভাবে। চিন্তার বাধ ভেঙে বুড়ো বলে উঠলো)
-- এই ভোর সকালে যে তোমরা আমার কাছে এসেছো,এইটা তোমরা তিন জন ছাড়া আর কে কি জানে..?
-- না হুজুর।আমাদের সাথে আরেকজন ছিলো,সে এখানে আসার আ....( কথা শেষ না হতেই বৃদ্ধ বলে উঠলো)
--- মারা গেছে তাই তো..?
-- আরে..! আপনি কি করে জানেন।
-- আত্মা নিয়ে খেলা করা আমার কাজ।সবই জানি আমি।তোমাদের কি বিপদ সেটাও জানি আমি।তবে হ্যাঁ, এই বিপদ থেকে তোমাদের বাচতে হলে অনেক কস্ট করতে হবে। তোমরা একটা নয়, তিন তিনটা খুন করেছো।আর ওরা তিন জনই শক্তিশালী আত্মা হয়ে গেছে।
-- তিনজন মানে..? প্লিজ হুজুর,আমাদের বলুন,কি হয়েছে,কিভাবে আমরা তিনটা খুন করেছ।আমাদের জানামতে তো শুধু রিয়াজ নামের একজনকে আমরা খুন করেছি। আর কে কে আছে..
-- লজ্জা করেনা তোমাদের...? একটা নিষ্পাপ ছেলেকে এভাবে পৃথিবী থেকে হারিয়ে ফেলোছো তোমরা..?
( মাথা নিছু করে মায়া উত্তর দিলো)
-- আমরা ভূল করেছি হুজুর।আপনি আমাদের রক্ষা করুন প্লিজ।আমরা আমাদের জীবন ভিক্ষা চাচ্ছি আপনার কাছে।
( এই বলেই হাত জোড় করে মায়া হাটু মাটিতে ফেলে বসে কান্না করতে থাকে।হুজুরের মন কিছুটা গলে যায়।এমনিই কারো কস্ট চোখের সামনে উনি সহ্য করতে পারেনা।)
-- ঠিক আছে, আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারি।তবে জীবন আমার কাছে নয়,উপরওয়ালার কাছে ভিক্ষা চাও।সে যদি চায়,তবে আত্মা কেন,কোনো শক্তিই তোমাদের কিছু করতে পারবেনা।আমরা মানুষ্যরা তো শুধু উছিলা
-- এখন আমাদের কি করতে হবে বলুন হুজুর।
-- তোমাদের হাতের তাবিজ ফেলে দাও।
-- কিন্তু হুজুর...?
-- হুম আমই জানি। কিন্তু এইটার কোনো কাজ নেই এখন।রিয়ার হাতে তাবিজ থাকা শর্তেও সে মারা গেছে।এর কারণ হচ্ছে তাবিজটা শুধু সেই রিয়াজের আত্মা আর বাচ্চা মেয়েটির আত্মার থেকে বাচাতে রক্ষাকারী ছিলো।সেই বাচ্চা ছেলেটির জন্য না।
-- বাচ্চা ছেলেটি কে হুজুর?
-- বলছি,এখন আমরা সকল আত্মাকে ডাকবো।তোমরা ঘরে আসো, সব রহস্য এক্ষুনি বের হবে।
-- ওকে হুজুর
( সবাই মিলে হুজুরের রুমে চলে যায়।হুজুর আগে থেকেই বাসায় সব রেডি করে রেখেছিলো। হুজুরের ঘরের বর্ণনা হচ্ছে, পুরো ঘরে হুজুর একাই থাকে।উনার বউ,ছেলে,মেয়ে কেও নেই।ছিলোনা বললে ভূল,উনি আত্মা নিয়ে গবেষণা করেন বলে উনার বউ ছেলে মেয়ে সবাই চলে যায় উনার শশুর বাড়িতে। উনিও আত্মাদের ছাড়বেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে।সে থেকে উনার সাথে উনার স্ত্রী এবং সন্তানদের কোনো যোগাযোগ হয়নি।হুজুরের পুরো ঘরে একটাই রুম।রুম বলতে উনার ঘরে এক্সট্রা কোনো রুম নেই। হুজুরের পুরো ঘরে একটিই রুম থাকার কারণে পুরো ঘরের ভিতরটা একটা স্টোডিয়াম এর মতো দেখা যাচ্ছিলো।হুজুর ঘরের মাঝখান বরাবর একটি কুণ্ডলী একে নেয়।কুণ্ডলী বলতে নিজেদের মন্ত্র পড়া কোনো অক্ষর বা চিহ্ন একে একে একটি নির্দিষ্ট অবস্তান। হুজুর সেই আকিঝুকির চারপাশে লাল রঙের কিছু পাউডার দিয়ে রেখা একে নেয়।একটা গোলকার রেখার মতো। সেই গোলকারবৃত্তের এক পাশে হুজুর নিজে বসে,আর ওপর পাশে প্রিয়া মায়া আর সামিয়া বসে পড়ে।
হুজুর চোখ বন্ধ করে কি যেনো পড়তে থাকে মনে মনে। ওরা তিন জন হুজুরের দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবতে পারছেনা,কিছুক্ষন পর আসলে তাদের সাথে কি হবে।একটা ভয় তাদের ভিতর কাজ করতেই থাকে।রিয়াজ কি এসে তাদের এখানে মেরে ফেলবে নাতো...? ওদের কল্পনাপ্রবণ বাধ ভেঙে পুরো রুমে অন্ধকার নেমে আসে।অবস্তাব হলেও সব কিছু বাস্তবে পরিণত হতে থাকে। হুজুর চোখ মেলে জোরে জোরে পড়তে থাকে,
{ভূত প্রেত আত্মা,করবিনা চালাকি,
ডাকছি আমি তোদের সবাইকে,
দিবিনা ফাকি।
আমি ধরছি তোদের লেজ,
বাড়াবিনা তোদের তেজ,
জলদি এসে ধরা দে নিজ শক্তিতে,
ভয়ংকর রুপ বাদ দিয়ে,বসে যা কুণ্ডলীতে।}
হুজুরের এই মন্ত্র পড়ার সাথে সাথে পুরো রুম অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। কুন্ডলীর মাঝখানে শুধু লাল রঙের একটা আলো দেখা যাচ্ছে,সেই আলো ছাড়া রুমের ভিতর নিজের দেহ নিজেই দেখতে পারছেনা কেও। আলোটা হুট করেই মায়ার দেহে প্রবেশ করে।মায়া হটাৎ করেই জোরে জোরে হাসতে থাকে। প্রিয়া আর সামিয়া ভয় পেলেও,হুজুরের কথামতো জায়গা থেকে নড়াচড়া করছেনা। হুজুর জোর গলায় মায়ার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে,)
-- কে তুই....
-- রিয়াজ.... রিয়াজ হোসেন ইমরান আমি... হাহাহাহাহাহা
( একটা ভয়ংকর কন্ঠে হাসতে থাকে মায়া,তবে মায়ার ভিতর এখন আর মায়া নেই,ও তো অন্য কেও হয়ে গেছে।মায়ার কণ্ঠস্বর এখন অন্যরকম হয়ে গেছে। অর্ধেক পুরুষ কন্ঠ,আর অর্ধেক মেয়ে কন্ঠ।হুজুর আবার প্রশ্ন করলো)
-- ওদের ক্ষমা করছিসনা কেন।ওরা তো অনেক ক্ষমা চেয়েছে,ওদের ভূল ওরা বুঝতে পেরেছে। এবার তো তাদের ক্ষমা করে দে।
-- হা হা হা হা হা, আমিও তো অনেক অনুরোধসূচক কথা বলেছি তাদের,আমাকে কি ছেড়েছে..? ছাড়বোনা,ওদের কাওকে ছাড়বোনা,এক এক করে সবাইকেই মারবো।আমার সাথে বাকি ২ জনও তাদের মারবে।কয়জনকে আটকাবি বেটা ২ পয়সার কবিরাজ...? হা হা হা হা
-- শুন, তোর সাথে বাকি ২ জন কে...?
-- ওরা যখন আমার লাশ ফেলে দেওয়ার জন্য ময়লা ফেলার জায়গায় যায়।তখন সেখানে বস্তির একটি মেয়ে পচা খাবার খুজছিলো।এক মায়ের এক মেয়ে ছিলো সে, মাত্র ৮ বছর সে বাচ্চার বয়স। ওরা আমার লাশ ছুড়ে ফেলার সাথে সাথে আমার লাশ বস্তা সহ উড়ে পড়ে সেই বাচ্চার উপর।বাচ্চাটি নিজেকে বাচানোর জন্য অনেক কস্টে আমার লাশ ওর উপর থেকে সরিয়ে নেয়। একটা ৮ বছরের বাচ্চার পক্ষে আমার লাশ সরানো অনেক কস্টের হয়েছিলো। মারা যাবার পর আমার লাশ হয়ে যায় আরো ভার।তবুও বাচ্চাটি অনেক কস্টে আমার লাশ সরায়।কিন্তু লাশটি সরাতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিলো।
-- দেরি হয়েছিলো মানে?
-- লাশ সরিয়ে মেয়েটি যেই বের হয়েছে,ততক্ষণে একটি ময়লার ট্রাক এসে মেয়েটির উপর সকল ময়লার বস্তা ফেলে দেয়। মেয়েটি ধড়পড় করতে করতে অবশেষে সেখানেই জীবন হারায়।বস্তির ময়লাযুক্ত একটি ময়লা হলেও,ওর চেহারা ছিলো ফুলের মতো আকর্ষণীয়। সেও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমায় ওপারে।ছাড়বেনা সে, সবাই এর শাস্তি পাবেই।
( বলে কান্না করতে থাকে মায়া, ওহহ সরি,ওটা রিয়াজের আত্মা, যে এখন মায়ার শরীরে অবস্তান করছে।)
-- আর বাচ্চা ছেলেটি কে..?
-- তোর পিছনে যে দাঁড়িয়ে আছে , সে
-- মানে..?
-- তাকিয়ে দেখ তো আগে,হা হা হা
( হুজুর পিছনে তাকাতেই, সেই বাচ্চা ছেলেটিকে দেখতে পায়,চোখ ২ টি গাড়ো লাল,মুখের চামড়া পচে প্রায় অর্ধেক ঝরে গেছে। পেটের ভিতর সকল মাংস,হাড্ডি আর পাকস্থলী দেখা যাচ্ছে। হুজুর কিছু বুঝে ওঠার আগেই,বাচ্ছাটি দৌড়ে এসে হুজুরের একটি চোখ তুলে ফেলে,
অন্ধকার একটি হৈ চৈ করা রুমের ভিতর ঘটে যাচ্ছে অনেক অবস্তাব ঘটনা। যা মানুষ্যরা করেনা বিশ্বাস,তবে এই অবিশ্বাস্য ঘটনার পিছনে লুকিয়ে আছে হাজারো বাস্তব রহস্য,দৌড়াদৌড়ি করছে অদ্রশ্য কিছু প্রান।যা দেখিনা আমরা খালি চোখে,তবে তাদের নিয়েই আমাদের সমাজবিধি চলছে। কি হবে,এইবার ওদের..?
গল্প- #আত্মা_নাকি_সে ?? (পর্ব -০৮)
লেখক- Riaz Raj
-------------------------
হুজুর পিছনে তাকাতেই, সেই বাচ্চা ছেলেটিকে দেখতে পায়,চোখ ২ টি গাড়ো লাল,মুখের চামড়া পচে প্রায় অর্ধেক ঝরে গেছে। পেটের ভিতর সকল মাংস,হাড্ডি আর পাকস্থলী দেখা যাচ্ছে। হুজুর কিছু বুঝে ওঠার আগেই,বাচ্ছাটি দৌড়ে এসে হুজুরের একটি চোখ তুলে ফেলে,
অন্ধকার একটি হৈ চৈ করা রুমের ভিতর ঘটে যাচ্ছে অনেক অবস্তাব ঘটনা। যা মানুষ্যরা করেনা বিশ্বাস,তবে এই অবিশ্বাস্য ঘটনার পিছনে লুকিয়ে আছে হাজারো বাস্তব রহস্য,দৌড়াদৌড়ি করছে অদ্রশ্য কিছু প্রান।যা দেখিনা আমরা খালি চোখে,তবে তাদের নিয়েই আমাদের সমাজবিধি চলছে।
এদিকে হুজুরের চোখ তুলে ফেলার কারণে হুজুর ধড়পড় করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।প্রিয়া আর সামিয়া, হুজুরের এমন অবস্তা দেখে চিৎকার চেঁচামিচি শুরু করে দেয়।এদিকে মায়া জোরে জোরে পৈশাচিক ভাবে হাসছে।সামিয়া চিৎকার করতে করতে কিছুক্ষনের মধ্যে সেখানেই জ্ঞ্যন হারায়।এবার প্রিয়া হয়ে যায় একা। প্রিয়া না পারছে মায়াকে কিছু বলতে।আর না পারছে নিজে কিছু করত। প্রিয়া হাউমাউ করতে করতে হটাৎ খেয়াল করে হুজুর শুয়া থেকে উঠে দাঁড়ায়। প্রিয়া কিছুটা আস্থা পেয়ে দৌড়ে এসে হুজুরের পিছনে দাঁড়িয়ে পড়ে। হুজুর এক চোখের মধ্যে,উনার নিজের ব্যাগ থেকে কিছু পাউডার লাগিয়ে দেয়। এইটা চোখ ভালো করার জন্য না,চোখের যন্ত্রণা থেকে বাচার জন্য অবশ হওয়ার একটা কিছু। হুজুর আশেপাশে তাকিয়ে দেখে বাচ্চা ছেলেটি রুমে নেই। প্রিয়া উনার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আর সামিয়া পড়ে আছে মাটিতে।হুজুর তড়িঘড়ি করে আরো কিছু পাউডার রুমে ছিটকে দেয়।যেনো কোনো অশরীরী সেই পাউডার অতিক্রম করে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। হুজুর আবার মায়াকে প্রশ্ন করে।)
-- আমার এক চোখ গেছে তো কি হয়েছে,অন্য চোখ এখনো আছে। তুই যতই চাল চালিসনা কেনো।আমার থেকে রেহাই পাওয়া অসম্ভব। গত ৩৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছি আমি।এইবার বল,ছেলেটা কে।
-- শুন ২ পয়সার কবিরাজ।এই ঝামেলায় নিজেকে জড়াতে আসিস না। নইলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে তোর। তোর স্ত্রী সন্তানদের মেরে ফেলবো আমি হা হা হা হা
--- দেখ রিয়াজ, তোর আত্মার শান্তির জন্য আমি ২ টা ছাগল জবাই দিবো।তবুও তুই চলে যা।
-- না.... ( রাগম্বীত কন্ঠে) এই কিছুতেই হবেনা।আমি আমার খুনের বদলা নিবোই নিবো।কেও আটকাতে পারবিনা আমাকে।আমি যাবো না...
-- ঠিক আছে।তোর কথাই মানলাম।কিন্তু তুই বল,ওদের তিনজনকে না মেরে অন্য কি করলে তুই চলে যাবি।
-- আমি ওদেরকেই চাই।ওদের যৌনাবেদনা আমি বুঝিয়ে দিবোই।সেই কস্ট দিয়েই মারবো।যে কস্ট আমাকে দিয়েছিলো ওরা।
-- তুই তাহলে আমার কথা শুনছিস না
-- কিছুতেই না
-- আমি চাইলে তোকে বোতলে আটকাতে পারি জানিস..?
-- আর সঙে সঙে যদি শুনতে পাস যে তোর পরিবার শেষ..? তখন..?
-- জন্ম মৃত্যু আল্লাহর কাছে। তোকে আমি ভয় পাইনা।
-- কিন্তু ওই তিনজনের মৃত্যু আমার হাতে।আমাকে কেও আটকাতে পারবেনা। কেওই না
-- মায়ার দেহ ত্যাগ করে যাওয়ার শক্তি এখন তোর নেই।আমি মন্ত্রজ্ঞ পাউডার ছিটিয়ে দিয়েছি।বোতলে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুতি নে রিয়াজ।
( হুজুর তার ব্যাগ থেকে একটি বোতল বের করার সঙে সঙে হটাৎ করেই জানালা খুলে যায়।হুজুর এক চোখে কোনো রকম জানালার দিকে তাকিয়ে দেখে, জানালা দিয়ে বাহির থেকে অনেক জোরে বাতাস আসতে থাকে।হুজুর মায়ার দিকে তাকিয়ে কিছু বলার আগেই,মায়ার ভিতরে অবস্থান করা রিয়াজের আত্মা বলে উঠে)
-- বলেছিলাম না..? আমাকে আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই।দেখ আমার বাকি শক্তিগুলো তোর পাউডার নস্ট করে দিয়েছে। কি করবি এবার তুই..? তোকে তো আমি দেখেই ছাড়বো। বিদায়
( এই বলে হটাৎ মায়া পিছনের দিকে শুয়ে পড়ে। মায়া শুয়ে পড়েনি।মায়ার দেহ থেকে রিয়াজের আত্মা বাহির হয়েছে।যার জন্য মায়া বেহুশ হয়ে পড়ে যায় মাটিতে। এদিকে সামিয়া এখনো জ্ঞ্যান হারিয়ে পড়ে আছে।প্রিয়া শুধু সব কিছু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। হুজুর প্রিয়াকে বলে একটু পানি এনে বাকি দুই জনের মুখে ছিটকে মারে।সামিয়া চোখ মেলেই বাচাও বাচাও বলে দুই একটা চিৎকার মেরে দেয়। পরে হুজুরের ধমকে চুপ হয়ে যায়।মায়াও শুয়া থেকে উঠে বলে যে তার কি হয়েছে। এদিকে প্রিয়া, মায়া আর সামিয়াকে সব কিছু খুলে বলে।ওরা কথাগুলো শুনে আরো বেশি ভয় পেয়ে যায়।কিন্তু হুজুর ওদের ভয়ের মাত্রা কমিয়ে দিয়ে বলল)
-- একটা পথ খোলা আছে এদের থেকে বাচার।
-- কোন পথ হুজুর।বলুন..?
-- রিয়াজের লাশ খুজতে হবে।
-- মানে..? কি বলছেন আপনি এসব হুজুর।
-- হুম,ওর লাশ খুজে, লাশকে জানাজা পড়িয়ে কবর দিলে ওর আত্মা মুক্তি পাবে।তখন ইচ্ছে করলেও আসতে পারবেনা।
-- তাহলে কি আমরা আজই যাবো..?
-- হুম, কিন্তু...
-- কিন্তু কি হুজুর
-- কিন্তু বাকি যে বাচ্চা ২ টা আছে।তারা তো থেমে থাকবেনা।একটা বাচ্চা কে, সেটা জানলা। তাকেও একই ভাবে দাপন করলে ঠিক হয়ে যাবে।তবে ছেলে বাচ্চাটি কে হতে পারে। সেটাই তো বুঝলাম না।
-- হুজুর, এদিকেও একবার ভাবুন।প্রায় ১ বছর আগে আমরা রিয়াজের লাশ ফেলেছিলাম।এখন ওর লাশ পবো কোথায়।
-- তার ব্যবস্তা করে রেখেছি আমি।রিয়াজকে যেখানে ফেলেছিস।সেকানকার এক মুঠো মাটি নিয়ে আসবি।আর ওটাই হবে রিয়াজের লাশ।
-- বুঝলাম।আর বাকি ২ জন..?
-- হুম।ওদেরকেও তো থামাতে হবে। আচ্ছা শুন, রিয়াজ আর বাচ্চা মেয়েটিকে,মাটি দিয়েই মুক্তি করতে পারবো।কিন্তু বাচ্চা ছেলেটি..? তাকে কি করবো।ওর সম্মন্ধে তো আমি কিছুই জানিনা।
-- আপনি তো অনেক অলৌকিক শক্তি জানেন।ওভাবে দেখেন..?
-- নাহ,আমি কোনো মানুষ এর চেহারা দেখলে তাদের সমস্যার কথা বুঝতে পারি। মন পড়তে পারি।তবে কোনো আত্মাকে নিয়ে পারিনা।ওমন শক্তি নেই আমার।
-- এখন উপায়..?
-- উপায় একটা আছে।
-- যেমন...?
-- বাচ্চা ছেলেটিকে বোতল ভরে রাখবো।তবে আগে ওই ২জনকে আটকাতে হবে।তারপর বাচ্চা ছেলেটি।নাহলে ওরা এসে বাধা দিবে।
-- ঠিক আছে।আমরা আজই ঢাকা যাচ্ছি। গিয়ে মাটি নিয়ে আবার এখানে আসবো।
-- হুম যাও
( হুজুরকে বিদায় দিয়ে প্রিয়া, সামিয়া আর মায়া গাড়িতে বসে পড়ে।মায়া ড্রাইভিং করছে,আর বাকিরা বসে আছে।আসার সময় হুজুর ওদের একটা একটা আঙটি দিয়েছে। আর বলেছে,যা কিছুই হোক,আংটি যেনো না খোলে।হুজুরের কথামত ওরা সেম কাজই করলো।আঙটি আঙুলে পড়েই বের হয়েছে। কুমিল্লা পার হয়ে যাখন ওরা কাচপুর ব্রিজের উপর উঠে।তখন শুরু হয় এক অভিশাপ্ত সময়।সামিয়ার ফোনে একটা অদ্ভুত নাম্বার থেকে ফোন আসে।সামিয়া নাম্বারটা দেখেই যেনো আধমরা হয়ে গেছে।নাম্বারটি ছিলো সেই নাম্বার,যে নাম্বার থেকে জান্নাতকে কল করা হয়েছিলো তার মৃত্যুর আগে।৩০৬৩ নাম্বার। সামিয়া ব্যাপারটা বলে মায়া এবং প্রিয়াকে।মায়া বলল)
-- দোস্ত,ফোন ধরিসনা।হয়তো কোনো খারাপ কিছু হয়ে যাবে
-- আমিও তাই ভাবছি। ফোন ধরবোনা।
( হটাৎ ফোনটি অটোমেটিক রিসিভ হয়ে যায় সেই ভাবে,যেভাবে জান্নাতের ফোন রিসিভ হয়েছিলো। মায়া প্রিয়া সামিয়া এবার ভয় পেয়ে ফোন বন্ধ করতে চেস্টা করে।কিন্তু কিছুতেই ফোন অপ হচ্ছেনা।ফোনটাও এখন তাদের বিরুদ্ধতা করছে। সামিয়া অবশেষে ফোনটা ব্রিজের উপর থেকে নদীতে ফেলে দেয়। হারিয়ে যায় ফোন নদীকূলে। কিন্তু ব্যাপারটা এখানেই থেমে গেলে হতো।ঘটনা সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিলোনা।হটাৎ প্রিয়ার ফোনেও সেই নাম্বার থেকে ফোন আসে। ৩০৬৩, প্রিয়া নাম্বারটা দেখে এবার নিজেও চোখ বড় করে ফেলে। সামিয়া আর মায়ার দিকে তাকিয়ে প্রিয়াও সেম ভাবে ফোনটা ব্রিজের নিছে ফেলে দেয়। ব্রিজে গাড়ির জ্যাম ছিলো। যার কারণে তারা অনেক্ষন ধরেই ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এবার ওদের সন্দেহ মায়ার ফোনেও ফোন আসতে পারে। ফোন আসতেই পানিতে ফেলে দিবে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছে ওরা। এবার ঘটনা ঘটলো উল্টো ভাবে। মায়ার ফোনে কোনো কল না এসেই ফোনের ভিতর থেকে সেই ভয়ংকর কন্ঠ ভেসে আসতে লাগলো)
-- হা হা হা হা, ভেবেছিস কি।আমাকে আটকাবি? কখনোই এই দুঃস্বপ্ন দেখিসনা তোরা। আমি ঠিকই আমার হিসাব মিটাবো। প্রস্তুত থাক, হা হা হা হা হা
( ভয়ংকর সেই হাসির শব্দ ওদের কান জ্বালাফালা করে ফেলছে।মায়া হাসির শব্দ সহ্য করতে না পেরে নিজের ফোনটাও গাড়ির জানালা দিয়ে বাহিরে ফেলে দেয়। প্রচণ্ড রকমের ভয়ের মধ্যে আছে ওরা। এদিকে চারপাশে হরনের শব্দে ওদের ঘোর ভাঙলো। জ্যাম ছুটেছে আরো ১০ মিনিট আগে। কিন্তু ওদের হুশ যেনো নিজেদের মধ্যেই ছিলোনা। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আবার সামনে এগুতে থাকে ওরা। চলন্ত গাড়ির ভিতর তিন যুবতী মেয়ের পথ চলছে ভয়াবহ এক মুহুর্তে। বুক ধুপ ধুপ করে কেপেই যাচ্ছে। নিজেদের হারিয়ে ফেলছে বার বার অজানা কোনো ভয়ের জগতে। হুম ভয়ের জগত, সেই ভয়ের জগত থেকে বাচার জন্যেই তাদের এতো আয়োজন।
ঢাকার পাশাপাশি আসতেই ওরা দেখতে পায় সামনে রাস্তার মাঝখানে অনেক গুলো লোক দাঁড়িয়ে আছে। সম্ভবত মারামারি লেগেছে রাস্তায়। ওরা গাড়ি রাস্তার এক পাশে দাড় করিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু ঝামেলা যেনো শেষ হবার নয়। পুলিশ মিডিয়া এসে ভরপুর হয়ে যায় রাস্তা। ধীরে ধীরে জনগনের সাথে পুলিশের মারামারি লেগে যায়। হুম এইটাই বাংলাদেশ। যেখানে বুঝার লোক একটাও না থাকলে, অবুজ করে দেওয়ার লোক হাজারো আছে। মায়া কিছুক্ষন পর পর গাড়ির স্টাডিং এর মধ্যে থাপড়াতে থাকে। কখন ঝামেলা শেষ হবে,আর কবে তারা পৌছাবে সেই সাভারের পাশাপাশি। এদিকে হটাৎ ওদের গাড়ির মধ্যে একটা পাথর উড়ে আসে । মারামারির মধ্যে থেকে কে যেনো পাথর মেরেছে। হয়তো নিশানা সটিক ছিলোনা তাই। পাথরের আঘাতে ওদের গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। মায়ার মাথা গরমে আগুন। ৬ লক্ষ ৪২ হাজার টাক দামের গাড়ি ওর।ও না পেরে গাড়ি থেকে বাহির হয়। বের হয়ে রাস্তার পাশ থেকে আরেকটা পাথর নিয়ে ছুড়ে পারে সামনের মারামারি করা লোকদের উপর। মায়ার ছুড়া পাথরটি গিয়ে পড়ে এক ছেলের মাথায়। ছেলেটি দেখতেও গাঞ্জাখোরের মতো। ঠিক তানিমের মতো।যে তানিম চোর রিয়াজের গল্প কপি করে ওর নামে চালায়। তানিম ছেলেটিকে দেখলেই গাঞ্জাখোর সেই ছেলেটিকে কল্পনায় আনা যাবে। ছেলেটির গায়ে পাথরটি পড়ার সাথে সাথে মাথা ফেটে যায় ছেলেটি। এবার ছেলেটি রেগে গিয়ে মায়ার দিকে দৌড়ে আসতে থাকে। গাড়ির ভিতর থেকে প্রিয়া চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো গাড়িতে উঠার জন্য। মায়া প্রিয়ার ডাকে গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করার আগেই ছেলেটি এসে মায়াকে এক ধাক্কায় মাটিতে ফেলে দেয়। রাস্তার পাশে মাটির ধূলোয় মায়ার মুখ নাজেহাল অবস্তা। সামিয়া গাড়ি থেকে নেমে ছেলেটিকে এক ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় রাস্তায়। এদিকে প্রিয়া মায়াকে ধরে গাড়িতে তুলে ফেলে । তবে এখানে অনেক বড় একটা ঘটনা ঘটে যায়। যা তারা খেয়ালই করেনি। সামিয়া যখন ছেলেটিকে ধাক্কা দেয়,তখন ছেলেটির হাতের ধাক্কায় মায়ার আঙুল থেকে আঙটি টা পড়ে যায়। মায়া আর প্রিয়া সামিয়াকে ডাকতে লাগলো। সামিয়া গাড়িতে যেই উঠতে যাবে,তখনি পড়ে থাকা ছেলেটি সামিয়ার ওড়না ধরে টান দেয়। নিমিষেই সামিয়া পড়ে যায় রাস্তায়। ছেলেটা এক লাফ দিয়ে রাস্তা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সামিয়া জোরে জোরে চিৎকার দিতে থাকে, বাচাও বাচাও। কিন্তু এর মধ্যেই ছেলেটি পিছন থেকে একটা ধারালো ছুড়ি বের করে গাড়ির দিকে এগুতে থাকে। মায়া ভয় পেয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সামনে ৩০ হাত দূরে চলে যায়। এদিকে সামিয়া পড়ে থাকে মাটিতে। ওই ছেলেটা দৌড়ে এসে ঝাপিয়ে পড়ে সামিয়ার উপর। তখনি চারপাশে থাকা লোকজন ছুটে আসে ওদের দিকে। জনগন পুলিশকে হামলা করে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু মাঝ রাস্তায় একটি মেয়ের উপর একটা ছেলে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে বিনোদন পেতে থাকে সবাই। মিডিয়ার লোক এসে ভিডিও রেকর্ড শুরু করে।অনেক ছেলেরা ক্যামেরা চালু করে ফোনেও ভিডিও করতে শুরু করে। মায়া আর প্রিয়া গাড়ি থেকে নেমে আসলেও,জনগনের ভীড়ের কারণে ভিতরে প্রবেশ করতে পারছেনা। এদিকে ছেলেটি সামিয়ার উপর ঝাপিয়ে পড়ার সাথে সাথেই, ছেলেটির হাতে থাকা ছুরিটি সামিয়ার ঘাড়ের এক পাশে ঢূকে যায়। ছেলেটি যেনো দেখেও দেখেনি। সামিয় ছেলেটীকে বাধাও দিতে পারছেনা। কিভাবে বাধা দিবে,ওর তো শুধুমাত্র চোখটাই খোলা।আর বাকি সব শক্তি উধাও হয়ে যায় ছুরির আঘাতে।
সামিয়া চারপাশ দেখতে পারছে।সবাই যে ভিডিও করতে ব্যস্ত,তাও বুঝতে পারছে,তবে কিছুই করার নেই। শুধু ভাবছে, এমনটাই হয়তো ওর সাথে হওয়ার ছিলো। এই কথাটা ভাব্বার পিছনেও রহস্য জুড়ে আছে। তা হচ্ছে,সামিয়া স্পষ্ট বুঝতে পারছে,ওর উপরে পড়ে থাকা ছেলেটির চোখ লাল হয়ে আছে। মাথা ফাটার কারণে ঠিক রিয়াজের মতই দেখাচ্ছিলো। তবে এইটা শিওর হওয়ার আগেই ছেলেটি বলে উঠলো)
-- বলেছিলাম না..? আমাকে আটকাতে পারবিনা। প্রকৃতি আমার সহায় হয়েছে। দেখ এবার কি হয়।
( হুম,ওটা রিয়াজ। ঠিকই ভাবছেন আপনারা। ছেলেটির শরীরের প্রবেশ করে রিয়াজ তার প্রতিশোধে ব্যস্ত। সামিয়ার জামাকাপড় হাতের নখের আচড়ে ছিড়ে ফেলে। সামিয়ার বুকের দিকে একটা সুতাও নেই।স্তনের সৌন্দর্যবর্ধন উপভোগ করছে চারপাশের ছেলেরা। গায়ের জোরে সামিয়ার নিছুনির দিকেরটাও ছিড়ে ফেলে। সামিয়ার যৌনিকে প্রদর্শন করছে হাজার হাজার মানুষ। টিভিতে লাইভ দেখানো হচ্ছে সামিয়ার ঘটনা,ফেসবুকে হাজার হাজার ভিউয়ার হচ্ছে লাইভে। সামিয়ার অর্ধ নগ্ন দেহ উপভোগ করছে পুরো বাংলার এপার ওপারের মানুষ্যরা। ভাইরাল হয়ে যায় মাত্র কয়েক মিনিটে সব।)
-- এই দোস্ত দেখ..? এইটা আমাদের কলেজের সামিয়া না..?
-- আরে তাই তো..? এই তোরা কে কোথায় আছিস, জলদি দেখে যা।সামিয়াকে কে যেনো রাস্তায় ফেলে ধর্ষণ করতেছে।
( সামিয়ার কলেজে শুরু হয়ে যায় তোলপাড়। সামিয়ার আব্বু টিভিতে নিউজ দেখছিলো।হটাৎ নিজের মেয়েকে এই অবস্তায় দেখে তিনি হার্টএট্যাক করে বসেন। সামিয়ার পরিবারের সবাই সামিয়াকে এই অবস্তায় দেখে যাচ্ছে। মনে কি ফিল হচ্ছে,তা আমি লিখে বুঝাতে পারবোনা,আপনি নিজেই ফিল করে দেখুন।
এদিকে রাস্তায় সামিয়াকে অর্ধ নগ্ন করে ২ মিনিট ধর্ষন করে ছেলেটি। হুম ছেলেটিই,তবে ওর ভিতর থাকা রিয়াজের আত্মাই তুলে নিচ্ছে তার প্রতিশোধ। মানুষের ভিড়ের ভিতর আসতে না পেরে প্রিয়া আর মায়া বাহির থেকে সামিয়া সামিয়া বলে চিৎকার করে গলা ফাঠাচ্ছে।






গল্প- #আত্মা_নাকি_সে ?? (পর্ব -০৯ ও শেষ)
লেখক- Riaz Raj
-------------------------
এদিকে রাস্তায় সামিয়াকে অর্ধ নগ্ন করে ২ মিনিট ধর্ষন করে ছেলেটি। হুম ছেলেটিই,তবে ওর ভিতর থাকা রিয়াজের আত্মাই তুলে নিচ্ছে তার প্রতিশোধ। মানুষের ভিড়ের ভিতর আসতে না পেরে প্রিয়া আর মায়া বাহির থেকে সামিয়া সামিয়া বলে চিৎকার করে গলা ফাঠাচ্ছে।
মায়া আর প্রিয়ার চিৎকার মানুষের ভিড়ের মধ্যেই আটকা পড়ে যায়।পৌচায়নি আমজনতার কানে।সবাই উপভোগ করছে সামিয়ার ধর্ষণীয়। কিছুক্ষন পর রিয়াজের আত্মা ছেলেটির দেহ ছেড়ে দেয়।ছেলেটিও অজ্ঞ্যন হয়ে পড়ে সামিয়ার উপর।একজন এসে সামিয়ার নাকে হাত দিয়ে দেখে সামিয়ার মৃত্যু হয়ে গেছে।এবার সবাই অজ্ঞ্যান থাকা ছেলেটিকে পিটিয়ে সেখানেই মেরে ফেলে।ব্রেকিং নিউজে খবর বের হচ্ছে "সামিয়া হত্যার পিছনে যাদের হাত আছে, তাদের বিচার চাই।"বাহহ খুব সুন্দর করে বাঙালীরা গরম করতে পারে,সমাধানের বেলায় সবাই মজাটাই নিতে জানে। যদি কাশ্মীরের পর বাংলাদেশে মুসলিমদের অত্যাচার শুরু হয়,তবে ঠিক এমনি হবে।সবার সামনে মুসলিম হত্যা হবে,অথচ কেও এগিয়ে আসবেনা।আর অন্যদিকে সোস্যাল মিডিয়াতে একের পর এক প্রতিবাদী নিউজ বের হবে"মুসলিম হত্যার বিচার চাই। " বুঝিনা,বাঙালী এমন কেন।বাশ খাওয়ার আগে বলবে, বাশটির সবুজ কালার খুবই সুন্দর। বাশ খাওয়ার পর বলবে, দারুন ভাবে লেগেছে রে,উফফ কি ব্যথা।
এদিকে সামিয়ার মৃত্যুর পর আতঙ্ক হয়ে আছে প্রিয়া আর মায়া।ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এসে দুই চারজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।ব্যস,ঘটনা এখানেই শেষ। পাবলিকের উপভোক্তা কেও চোখেও তুলে দেখেনি। কিছুদিন হৈ চৈ হয়েই কবি নিরব।
মায়া আর সামিয়া এই ঘটনার পর আর সাভারে যায়নি মাটি নিয়ে আনতে। ভয়ে ভয়ে কাটিয়ে দেয় আরো ২ টি দিন। ২ দিন পর ওরা মাটি আনার সিদ্ধান্তে আসে।এরপর গাড়ি নিয়ে ছুটে চলেছে আবার মাটির উদ্দেশ্য।রিয়াজকে যেখানে ফেলেছে, সেখানে গিয়ে ১থলি মাটি ওরা সংগ্রহ করে নেয়।থলি সহ মাটি নিয়ে আবার রওনা হয় নোয়াখালী। সাথে কোনো নতুন ফোন নেয়নি ওরা। হয়তো ৩০৬৩ নাম্বার ওয়ালা ফোন থেকে আবার যদি ফোন চলে আসে। ভয়ের উপরে যদি কোনো ভয় থাকে,তা হলো জীবনের ভয়। প্রেমিক প্রেমিকাকে ডায়লগ দেয়" তোমারে না পাইলে আমি মইরা যামু,চইলা যামু,হারাইয়া যামু অজানা দেশে"। হুদাই এসব ডায়লগ মেরে ছেলে/মেয়েদের মনটাই গলানো। একবার বলে দেখেন মরার জন্য,দেখবেন উত্তর আসবে"তুমি আমাকে ভালোবাসোনা,তাই তো মরার কথা বলছো,যাহহ তোর লগে ব্রেকাফ"। সাথে সাথে ছোটখাটো একটা ডিপোর্স ও দিয়ে দিবে,মানে ব্লক করে দিবে ফেসবুক একাউন্ট। এই হচ্ছে আধুনিক যুগের প্রেম।আরে ভাই,প্রেম করবেন তো তাকে পাওয়ার জন্য করেন।নিজেকেই যদি শেষ কইরা দেন,তাইলে বুঝা যায় কি?আপনি নিজেকেই ভালোবাসতে পারেন না,তো তাকে কিভাবে ভালোবাসবেন।
এদিকে মায়া ড্রাইভিং করতে করতে চোখে ঘুম লেগে এসেছে। প্রিয়া চালাবে বলছে,কিন্তু মায়া বারণ করেছে যে সেইই চালাবে।মায়ার মনে ভয়,যদি প্রিয়ার হাতে কিছু হয়ে যায়।নিজের উপর নিজেই নির্ভর করে গাড়ি চালাচ্ছে। অবশেষে কবিরাজের বাড়িতে এসে পৌচায় তারা ৫ ঘন্টা পর। এসেই তাড়াহুড়া করে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে মায়া আর প্রিয়া। দৌড়ে আসে কবিরাজের বাড়ি। কিন্তু তাদের শেষ ভরসা টুকুও রইলোনা। ওরা যেদিন বাড়ি থেকে বের হয়েছিলো।সেদিন রাতেই কবিরাজকে কে যেনো মেরে ফেলেছে।তাও স্বাভাবিক ভাবে মারেনি। পুরো দেহ মাটিতে পুতে শুধুমাত্র মাথাটা উপরে রেখে দিয়েছিলো। লোকমুখে শুনা যায়,কবিরাজের দুটু চোখই ছিলোনা।
মায়া আর প্রিয়া কান্না জুড়ে দেয় সেখানেই।ওদের শেষ যে পথ ছিলো,এখন তো সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।কি করবে ওরা। কিভাবে বাচাবে নিজেদের।তারাও কি বলি হবে? রিয়াজের..?
নিরুপায় হয়ে আবার ঢাকা চলে আসে প্রিয়া আর মায়া।কি থেকে কি করবে,তা ওদের অজানা। রিয়াজের হাত থেকে কি তারা বাচতে পারবেনা..? কেটে যায় আরো কয়েকদিন।হাতের আঙটি খুলেনি বলেই হয়তো এতোদিন তারা স্বাভাবিক আছে। মায়া আর প্রিয়া হটাৎ মনে করে সেই কবিরাজের কথা।যে কবিরাজ সামিয়াকে সাহায্য করেছিলো। অনেক কস্টে খোজ খবর নিয়ে ওরা জানতে পারলো এই কবিরাজ এখনো বেচে আছে। কিন্তু মায়া আর প্রিয়া উনার কাছে কোন মুখ নিয়ে যাবে।কোন পরিচয় দিবে।ভাবতেই মায়া বলল)
-- প্রিয়া,আমরা যদি উনার কাছে যাই।তবে উনি আমাদের এমনি চিনতে পারবে।কারণ সামিয়া হয়তো আমাদের কথা আগেও বলেছিলো।উনি সামিয়াকে হেল্পও করেছে।
-- হুম তা ঠিক।কিন্তু একটা কথা,আত্মা ছেলেটি কে,আমরা কিন্তু এখনো জানতে পারিনি।
-- সেটা এই কবিরাজের থেকে জেনে নিবো।
-- তাহলে কি শিওর যাচ্ছিস?
-- জীবন বাচাতে হলে, যেতে তো হবেই বল..?
-- ওকে চল।
( মায়া আর প্রিয়ার যে বলা সেই কাজ। ওমনি রওনা দেয় রংপুর। অনেক কস্টে কবিরাজের ঠিকানা বের করে ওরা কবিরাজের বাসায় যায়। কবিরাজ তাদের দেখতেই বলল)
-- আমি জানতাম, তোমরা আসবেই।
-- জ্বী? ঠিক বুঝলাম না।
-- তোমাদের সাহায্যকারী একমাত্র আমিই আছি। সামিয়াকে আমি বলেছিলাম,কোনো এক রাস্তার মাঝে তোর মৃত্যু হবে,তুই রস্তায় বের হইস না।কিন্তু কে শুনে কার কথা।অবশেষে সে এরই স্বীকার হয়েছে।তাই বুদ্ধি করে আমি সামিয়াকে বলেছি আমার কথা তোদেরকে বলার জন্য। আমি জানিতাম।সামিয়ার মৃত্যুর পর তোরা আমাকেই স্বরণ করবি।
-- এখন আমরা কি করবো? কিভাবে মুক্তি পাবো আমরা?
-- রিয়াজের আত্মাকে শান্ত করতে হলে ওর মরা দেহের জায়গা থেকে মাটি নিয়ে আসতে হবে।
-- আমরা এনেছি। এই যে।( থলিটা এগিয়ে দিয়ে)
-- বাচ্চা মেয়েটির আত্মাকে শান্ত করতে হলে ওর পরিবারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।
-- কিন্তু..?
-- আমি জানি তোমরা ধরা খাওয়ার ভয়ে সেটা করতে চাইবেনা।তাহলে শুনো,তোমরা বাচ্চা মেয়েটির বাসায় গিয়ে বলবে যে,ময়লার জায়গায় ময়লার বস্তা ফেলার জন্য তোমরা গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলে।তারপর ওই বাচ্চাটি সেখানে ময়লার বস্তার ভিতর পড়ে মারা যায়।তোমরা চিকিৎসা ও করেছিলে।তবে বাচাতে পারোনি। আর এর জন্য ক্ষমা চাইবে তোমরা।
-- যদি ক্ষমা না করে..?
-- মেয়েটি মারা গেছে। তাও প্রায় বছরের উপর হয়ে গেছে। এখন ওরা ক্ষমা করবেই।
-- আর বাচ্চা ছেলেটি..?
-- হুম।তার আত্মাকে শান্ত করতে হলে,সানজিদা বেগমের কাছে যেতে হবে।
-- মানে..? উনি তো আমাদের কলেজের ঝাড়ুদার। গত ৫ মাস থেকে উনি কলেজে আসছেই না।উনার কাছে যাওয়ার কারণ কি..?
-- বাচ্চা ছেলেটি সানজিদা বেগমের ছেলে।
-- ঠিক বুঝলাম না
-- তোমরা সানজিদাকে লোভ দেখিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছো তাইনা..?
-- হুম।
-- কিন্তু এর জন্য সানজিদা নিজের ছেলেকেই হারিয়েছে। যখন তোমরা উনাকে ভয় দেখিয়ে বা লোভ দেখিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছো। উনি চুপই ছিলো। তবে রিয়াজের মৃত্য উনি সহ্য করতে পারেনি। উনি জানে তোমরাই ওর খুনি। কিন্তু পাশাপাশি নিজেকেও খুনি ভেবে নিয়েছিলেন সানজিদা বেগম।সামলাতে না পেরে উনি শেষে চাকরিটাই ছেড়ে চলে যায় নিজের বাড়ি।তোমাদের দেওয়া টাকা ওদের সংসারে বেশিদিন টিকেনি। মাত্র ১ মাস যাওয়ার পর পরেই উনার ছেলে খাবারের কস্টে মারা যায়।খাবার পায়নি তা নয়। ছেলের আগে থেকেই রোগ ছিলো। তার উপর পুষ্টিকর খাবার না পেয়ে,ঠিক মতো মেডিসিন নিতে না পেরেই পাড়ি জমায় ওপারে।সানজিদাও কাজ কর্ম হাতে পায়নি। ছেলের মৃত্যুতে অসুস্ত হয়ে পড়ে সানজিদা বেগম। উনার ছোট মেয়ে ভিক্ষা করে করে দিনে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পায়।মেয়ের মাত্র ৬ বছর। এতোটুকু একটা মেয়ে ভিক্ষা করে ৬০-৭০ টাকা এনে ডাল ভাত খায়। পেট তো ভরেই না।উল্টো খাবার নিয়ে মারামারি হয়ে যায় মা মেয়ের।কোনো রকম জীবনটা বাচিয়ে রেখেছে ওরা। আর এর পিছনে সব থেকে বড় হাত তোমাদের।শুধুমাত্র একটা কাজের জন্য তোমরা কয়টা প্রান বিপদবহুল করেছো, সেটা তোমাদের আইডিয়া নেই।
( মায়া আর প্রিয়া কান্নাকাটি শুরু করছে। কিন্তু এখন আর এসব করে লাভ কি। ওরা তো পাপ করতে করতে এতোই বেশি পাপ করে ফেলেছে,যে ওদের বেচে থাকার কোনো মানেই হয়না। কিছুক্ষন পর মায়া বলল)
-- সানজিদার কাছে গিয়ে আমরা কি করবো,বলে দিন প্লিন।
-- উনার কাছে গিয়ে,উনাদের দায় ভার নিতে হবে। নিজের মা আর বোনের সুবিধা দেখলে,বাচ্চা আত্মাটি মুক্তি পেয়ে যাবে।তবে সারাজীবন এর জন্য তাদের চালাতে হবে তোমাদের।আর নয়তো নিজেরাই সারাজীবনের জন্য পৃথিবী ত্যাগ করো।
-- না,আমরা সানজিদার সব ভরন পূষন করবো।তারমানে কি এখন আমরা সম্পুর্ন অভিশাপ মুক্ত..?
-- না, থলি ভর্তি এই মাটি আমি কবর দিয়ে ফেলবো।তবে রিয়াজের আত্মা এতে হার মানবেনা।সে তখনও তোমাদের ক্ষতি চাইবে। বাকি ২ পরিবারকে তোমরা শান্ত করতে পারলে,তবেই রিয়াজের আত্মা চলে যাবে।
-- ঠিক আছে,আমরা তাহলে ঢাকা চলে যাচ্ছি।
-- হুম সাবধানে।আর একটা কথা..
-- জ্বী বলুন?
-- ৩০৬৩ একটা নাম্বার আছে।ওটার রহস্য জানো..?
-- আরে!ভুলেই গিয়েছিলাম। হুম বলুন,ওটা কার নাম্বার।
-- কারো নাম্বার না।ওটা হচ্ছে,রিয়াজের সিট নাম্বার।
-- যেমন..?
-- অনেক আশা নিয়ে রিয়াজ কলেজে এসেছিলো।নিজের একটা পরিচয় গড়বে বলে। সারাদিন সে তার সিট নাম্বারের দিকে তাকিয়ে থাকতো।শুধুমাত্র একটা কথাই ভাবতো,""এই সিট থেকেই আমি অনেক দূরে যাবো,তখন আমার সিট হবে সবার উপর।শুরু হোক ৩০৬৩ সিট থেকেই""।
কিন্তু তোমরা তো ওর সিট না,তাকেও ধ্বংস করে দিয়েছো।তাই রিয়াজ তার স্বপ্নের সিড়ির সেই নাম্বার অনুযায়ী তোমাদের ফোন দিচ্ছে।
-- হুম। বুঝেছি ( আরো ভয়ার্ত কন্ঠে)
-- ঠিক আছে,এবার যেতে পারো।
-- ওকে।
( প্রিয়া আর মায়া সোজা গিয়ে পৌচায় বস্তির মধ্যে।অনেক খুঁজাখুঁজি করে বাচ্চা মেয়েটির বাসা বের করে।কিন্তু এসেই তারা বড়সড় একটা ধাক্কা খায়। গত পরশু ওর পরিবারের সবাই বস্তি ছেড়ে চলে যায়।এবার প্রিয়া আর মায়া করবেটা কি। যদি তাদের খুজে না পায়,তবে তারা ক্ষমা চাইবে কি করে,কিভাবে মুক্তি দিবে সেই আত্মা মেয়েটিকে।অনেক খুঁজাখুঁজি করেও মিলেনি মেয়েটির পরিবার।হয়তো পড়ে আছে কোনো রেল স্টেশনের পাশে,নয়তো পড়ে আছে কোনো ময়লা আবর্জনার অবস্তানে। কিন্তু এতো বড় এক শহরে ওদের খুজবে কোথায় তারা।সময় যত যাচ্ছে,মৃত্যুর চাহনি ওদের দিকেই এগিয়ে আসছে।ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের মূল্যবান সময় গুলো।মায়া আর প্রিয়া নেমে পড়ে রাস্তায়। যদিও ওদের চিনেনা, তবে বস্তির লোকদের থেকে কয়েকটা ফটো সংগ্রহ করে নেয় তারা। খুজতে খুজতে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দুপুরবেলার রোদ্রের তাপ চুষে নিচ্ছে ওদের শক্তি।পুরপুরি ভাবে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে একটা নদীর পাড়ে এসে বসে পড়ে।পাশেই একটা ফুচকার দোকান দেখতে পায়। মায়া হাক চেঁচিয়ে বলল)
-- মামা, দুই প্লেট ফুচকা দিন তো..?
-- জ্বী আপা দিতাছি।তা ঝাল কমাইয়া দিমু নাকি বাড়াইয়া দিমু
-- ওই এক রকম হলেই হবে। আপনি দিন।
-- আইচ্ছা আপা,একটু বহেন,দিতাছি।
( ২ মিনিট পর)
-- এইজে আপা,আপনাগো ফুচকা, নেন।
( মায়া পিছন পিরে ফুচকাওয়ালার দিকে তাকাতেই চমকে উঠে।আরে!উনি তো সেই মেয়েটির বাপ।যে মেয়েটির পরিবারকে ওরা পাগলের মতো খুজে আসছে। শিওর হওয়ার জন্য ব্যগ থেকে ফটো বের করে দেখে নেয়। নাহহ,পুরোপুরি ভাবেই মিলে গেছে। মায়া ফুচকার প্লেট রেখে উনাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষন কান্না করতে থাকে। লোকটি হতভাগ হয়ে দাড়িয়েই রয়েছে। মায়ার কান্নার কারণে লোকটি শার্ট ভিজে প্রায় যায় যায়।)
-- আপা,আপনি কানতাছেন কেন।আমি তো কিচ্ছু বুঝতাছিনা।
-- প্লিজ আমাদের ক্ষমা করুন প্লিজ। আমরা অনেক বড় এক ভুল করে ফেলেছি। শুধুমাত্র আপনিই পারেন আমাদের রক্ষা করতে।( কান্না করতে করতে কথা গুলো বলছিলো)
-- আপনাদের আমি দেখলামই এই প্রথম।কি হইছে আমারে খুইলা কইবেন?
-- আগে বলুন আমাদের ক্ষমা করে দিবেন?
-- ঠিক আছে মা,আমি ক্ষমা কইরা দিমু।এহন কও কি হইছে।
-- আসলে আমরা ভুল করে ময়লার বস্তা ফেলতে গিয়ে আপনার মেয়ের উপর ফেলে দিয়েছিলাম।আপনার মেয়ে সে ময়লার বস্তার ওজন না নিতে ফেরে মারা যায়। আমরা হসপিটালেও নিয়ে গেছিলাম।কিন্তু বাচাতে পারিনি। এরপর থেকে আপনাদের অনেক খুজেছি আমরা। প্লিজ, আমাদের ক্ষমা করুন প্লিজ।
( মায়ার কথা গুলো শুনে লোকটির মুখ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। পুরো মুখে নেমে আসে এক অন্ধকার। রাগ করার মতো ভাব নিয়ে লোকটি নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ায়।মায়া আর প্রিয়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কান্না করছে, আর লোকটির দিকে হাত জোড় করে তাকিয়ে আছে। লোকটি নদীর পাড়ে গিয়ে গলা থেকে গামছাটা হাতে নেয়।এরপর মুখের ঘাম মুছে একটা স্বস্থীর নিশ্বাস ফেলে বলতে লাগলো)
-- আপা, আমরা গরিব মানুষ। ঠিক মতো খাইতে পারিনা। আমার মাইয়াডা খুব মায়াবী ছিলো। আমারে যহন আব্বা আব্বা কইয়া ডাক দিতো।আমার কলিজাডা পুরা ঠান্ডা হইয়া যাইতো। একদিন হটাৎ কইরাই আমার মাইয়াডারে আমরা হারাইয়া ফেলছি। জানেন আপা? মাইয়া আমার অনেক চটু ছিলো( চালাক যাকে বলে)। খালি অভিনয় কইরা কইতো "আব্বা,আইজকা আমার লাইগা চকলেট নিয়া আইসেন,তুমি হজ্ঞলের থেইকা ভালা,আমি জানি তুমি না করবা না"। আমার মাইয়ার এমন ঢং কথা হুনলে মনডা চাইতো ওরে কলিজায় ভইরা রাইখা দি।টাহা পয়সা ছিলোনা আমার কাছে। দিন আইনা দিন খাইতাম।চকলেট কিন্না দিতাম বাকি রাইখা। এহন এই দোকানডা অনেক কস্ট কইরা দিছি। কোনো রকম চলতাছে আমার সংসার। এহন আমার পকেটে চকলেটের টাকা থাকে আপা,শুধু যে খাওনের লাইগা অভিনয় করতো,আমার সেই মাইয়াডাই নাই।
( কথা গুলো বলেই লোকটি গামছা চোখে রেখে কান্না করতে থাকে। উনার সাথে মায়া আর প্রিয়াও কান্না জুড়ে দেয়। পরিস্তিতি হিসেবে মায়া আর প্রিয়া দৌড়ে গিয়ে লোকটির পায়ে পড়ে।লোকটি চমকে উঠেই নিছের দিকে তাকায়। এরপর মায়া বলে)
-- প্লিজ,আমাদের মাফ করুন। আমাদের অজান্তে আমরা অনেক বড় পাপ করে ফেলেছি। প্লিজ,দয়া করুন আমাদের
-- আরে কি কইতাছো,আমার একটা মাইয়া গেছে তো কি হইছে,আর দুইটা মাইয়া তো পাইছি আমি।আইজকা হইতে তোমরাই আমার মাইয়া
( মায়া আর প্রিয়া লোকটিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। তাদের ঠিক বাম পাশের একটি গাছের উপর থেকে বাচ্চা আত্মাটি মুচকি হাসি দিয়ে বলে উঠলো,
" হিহিহিহি,আব্বায় তো আমার জায়গা ওগোরে দিয়া দিছে।আমি তাগোরে কেমনে মারুম।"
বলেই বাচ্চাটি চলে যায় তার ঠিকানায়। মুক্তি পায় একটি অভিশাপ্ত আত্মা।এদিকে মায়া আর প্রিয়া লোকটির সাথে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে দেওয়ার পর চলে যায়। এবার ওদের লক্ষ্য সানজিদার দায় ভার নিতে। রাস্তার মাঝে আসতেই জ্যাম পড়ে যায় রাস্তায়। গাড়ি অনেক্ষন দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে জ্যাম ছুটার কোনো নাম নিশানা নেই। হটাৎ একটি ছেলে জানালা দিয়ে হাত পেতে বলল)
-- দুইটা টাকা দিবেন?
-- আরে যাহহ, কোথা থেকে যে আসে এসব ভিক্ষুক
-- আপা, আমার খিদা লাগছে।এক বেলা ভাত খামু।দেননা কয়টা টাকা
( প্রিয়া এবার মেজাজ খারাপ করে ছেলেটির দিকে তাকায়।প্রিয়া সেদিকে তাকাতেই এক চিৎকার মেরে উঠে।প্রিয়া চিৎকার দেওয়ার পিছনে কারন হচ্ছে,কবিরাজের চোখ যে তুলে নিয়েছে,আর রিয়ার যৌনি দিয়ে যে ছেলেটি একটি রড দিয়ে আঘাত করেছে,এইটা সেইই ছেলেটা। প্রিয়ার সাথে সাথে মায়া নিজেও ভয় পেয়ে যায়। প্রিয়া ভয়ে জানালা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মায়া সেটা না করে গাড়ির দরজা খুলে দৌড় দেয় সামনের দিকে। এমন সময় রাস্তার সবুজ বাতি জ্বলে উঠে। অর্থাৎ জ্যাম খুলে গেছে। প্রিয়া জোরে এক চিৎকার দেয় মায়া বলে। এতক্ষনে সব শেষ।একটা গাড়ি মায়াকে ধাক্কা দেওয়ার সাথে সাথে মায়া পিছনে গিয়ে ধাক্কা খায় আরেকটা কাচের গাড়ির সাথে। নিজেকে ঠেকাতে গিয়ে কাচের মধ্যে হাত দিয়ে ফেলে।
কিন্তু নিজেকে ঠেকাতে পেরেছে ঠিকই।এর পরিবর্তে উল্টো এক কাজ হয়ে গেছে।মায়ার হাত কাচের আঘাতে কেটে গেছে।প্রায় চারটা আঙুল কেটে পড়ে যায় রাস্তায়।এর মধ্যে আংটি থাকা সেই আঙুল ও কেটে পড়ে যায়।মায়ার রক্তাক্ত হাত নিয়ে পিরে আসলেই হয়তো বেচে যেতো।কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।৪৭ মিনিটের জ্যাম থেকে তেড়ে আসা গাড়ি তাকে পিষিয়ে ফেলে রাস্তায়।একেক জায়গায় পড়ে আছে মায়ার একেকটা শরীরের টুকরো। জামাকাপড় ছিড়ে রক্তাক্ত হয়ে গেছে ওর প্রতিটি অঙ।
শেষ মায়া।মুচে গেছে মায়ার অস্তিত্ব। পাপের সাজা ঠিকই পেয়েছে সে। এবার বাঙালীর কাজ শুরু।ব্রেকিং নিউজ, আজ বিকেল ৫ ঘটিকা, মাতাল এক মেয়ে গাড়ির নিছে পড়ে নিহত হয়। অনেক নেশা করার ফলে নিজের সেন্স ছিলোনা।
গুজব গুজব গুজব, একবার এক রকম গুজব ছড়ানো শুরু হয়ে যায়।
প্রিয়া বুঝতে পেরেছে,ও আর বাচতে পারবেনা।ওর সাথের ৭ জনকে কেড়ে নিয়েছে সে।এবার তাকেও নিয়ে যাবে।প্রিয়া আর সহ্য করতে না পেরে নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর ফ্যানের সাথে নিজের ওড়না বেধে নিজের গলায় নিজেই ফাসি দেয়।ফাসি দেওয়ার আগে একটা চিঠি রেখে যায়।
"আমার মৃত্যুর কারন আমি নিজেই।ইচ্ছাকৃত ভাবে যদি ফাসি না দিতাম।তাহলে হয়তো পুরো দেশের সামনে আমার মৃত্যু হতো। সে আমাকে একটি খারাপ মেয়ে হিসেবে তুলে ধরতো। সবার সামনে আমাকে ধর্ষতা মেয়ে প্রমান করতো। তাই নিজের ইচ্ছায় আমি নিজেই ফাসি দিলাম। শুধু যাওয়ার আগে সবার কাছে একটা মেসেজ দিতে চাই। জীবনে যাই করোনা কেনো,কখনো কাওকে দুর্বহ ভেবে কিছু করোনা। হতে পারে তার এই দুর্বলতার সাথে,তোমার হাজারো শক্তি টিকে থাকতে পারবেনা।তার ক্ষতি করতে গিয়ে হয়ে যাবে হয়তো,কিছু নির্দোষ মানুষের।তারাও তোমার শক্তিকে নিয়ে নিবে হাতের মুঠোয়।""
আ............... বাচাও বাচাও বাচাও বাচও..........
( কলেজের সবাই দৌড়ে আসে হোস্টেলের একটি রুমের সামনে। দরজা ভেঙে সবাই ভিতরে প্রবেশ করতে দেখতে পায় মায়া,সামিয়া,রিয়া,তানিয়া,সুমাইয়া,পিংকি,প্রিয়া আর জান্নাত ঘাবড়ে আছে।এই সকাল বেলা ওদের মুখ দেখে সবাই বুঝতে পেরেছে ওরা খুব ভয় পেয়ে আছে। সবাই প্রশ্ন করাতেও ওরা কিছু উত্তর দেয়নি। শুধু একজনের দিকে একজন তাকিয়ে হাসছে। আর নিজেদের মধ্যে নিজেরা প্রান খুলে হাসছে।
হুম,যেটা ভাবছে সেটাই। পুরো গল্পটি ওদের একটা স্বপ্ন ছিলো। সবাই একই স্বপ্ন, একই সময়ে দেখেছে। নিজেদের জীবন্ত অবিস্কার করে ওরা খুশিতে কি থেকে কি করবে ভেবে পাচ্ছিলোনা। এমন একটা অদ্ভুত স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই ছিলোনা। এইটা ছিলো তাদের জীবনের এক শিক্ষা।হয়তো উপরওয়ালা তাদের এমন পাপকে আর সহ্য করতে পারেনি। তাই স্বপ্নের মাধ্যেমে তাদের শিক্ষাটা দিয়ে দিয়েছে।
এখন ওরা কোনো ছেলে মেয়েকে ছোট করে দেখেনা।সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করে।কলেজের প্রতিটি মানুষ এখন তাদের খুব ভালোবাসে।যে ৮ জনকে আগে সবাই ঘৃনার চোখে দেখতো,এখন তাদের ভালোবাসতে কারোই ভাবতে হচ্ছেনা।সবাই অবাক হয়েছিলো তাদের হুট করে এমন ব্যবহার দেখে।ছোটবড় সবাই এখন তাদের বন্ধু।এদিকে হটাৎ জান্নাত বলে উঠলো)
-- দেখ দেখ,এইটা ওই ছেলেটা না? যাকে আমরা স্বপ্নে অবিস্কার করেছিলাম?
-- আরে তাই তো..? চল,তাকেও আমাদের সাথে নিয়ে নি।এখন ও হচ্ছে আমাদের ফ্রেন্ড।
রিয়া বলল
-- এই যে রিয়াজ ভাইয়া,কেমন আছেন।
-- জ্বী ভালো।সরুন, আমাকে জায়গা দিন।ক্লাসে যাবো।
-- বাহ,স্বপ্নে দেখা সেই সাদা সিধে ছেলেটাই তো।
( কাটেনি বেশিদিন রিয়াজের সাদা সিধে ভাব।এখন কলেজের সবচেয়ে স্মার্ট ছেলে রিয়াজ। আর ওর গার্লফ্রেন্ড মায়া।)
----------সমাপ্ত-------

0 মন্তব্যসমূহ